বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চেয়ার তামিম ইকবালের হয়ে যায়। বোর্ডের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এই অ্যাডহক কমিটির বড় দায়িত্ব, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা। দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোর্ডসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানালেন, সেই নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি।
পাশাপাশি আগ্রহী সবাইকে অনুরোধ করলেন নির্বাচনে অংশ নিতে।
তামিম বলেন, “অবশ্যই আমরা নির্বাচন করব। এখানে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করতে হবে। আমার ইচ্ছা থাকতে পারে, আমি (নির্বাচন) করতে পারি, উনার (বাঁ পাশের জনকে দেখিয়ে) ইচ্ছে থাকতে পারে, উনার (ডান পাশের জনকে দেখিয়ে) ইচ্ছা নাও থাকতে পারে।
যখন একটা ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে…শুধু আমরা নই, যারা যারা আগ্রহী, সবাইকে অনুরোধ করব অংশগ্রহণ করতে। একটা বোর্ডের নির্বাচন হবে, এটা যারা যারা আছেন, বোর্ডের ক্রিকেটাররা, সংগঠক, সবার অংশ নেওয়া উচিত। আমরা যেন একটা সুন্দর নির্বাচন করে দিয়ে যেতে পারি, এই অবস্থানটা আমরা এই পরিবেশ তৈরি করে দেব, যেখানে সবাই এসে নির্বাচন করতে পারবে।”
বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সুপারিশমালায় গঠনতন্ত্র ব্যাপকভাবে সংশোধনের কথা বলা আছে।
ফলে এই সুপারিশকে গুরুত্ব দিলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব, তা সময়ই বলে দেবে। কারণ, এর আগে কখনোই অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ হয়নি। অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট কিছু বলেননি এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
জানা যায়, ২০০৫, ২০০৮ এবং ২০১৩ সালে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন অ্যাডহক কমিটির অধিকাংশ সদস্য। তাঁদের অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন।
গঠনতন্ত্রেও এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি নেই। অর্থাৎ চাইলেই তামিম কেন, অ্যাডহক কমিটির সকল সদস্য বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনেও অংশ নিতে চেয়েছিলেন তামিম। মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। একইরকম অভিযোগে সরে দাঁড়ান সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই। সেই বিসিবি নির্বাচনে জিতেই পরে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই নির্বাচনের অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সেই কমিটির পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতেই আমিনুলের বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন