রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এর আগে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২ জুন) তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত অপর কমিটি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে।
দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মাহমুদুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৭ মে (বুধবার) ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ (পোস্ট ডেলিভারি) ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শ্বাসরোধে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই রমনা থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার দিনই সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালককে (হাসপাতাল-১)। এ ছাড়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (আইন শাখা) এই কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিকারের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
ওইদিন আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওই এসি ওয়ার্ডটিতে ১১ জন মা ও ৬টি নবজাতক ছিল।
দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুটি শিশু অসুস্থ বোধ করলে তাদের এনআইসিইউতে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা সুস্থ দেখার পর তাদের আবারও মায়ের কাছে ফেরত পাঠান।
তবে সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ মায়েরাই জানান যে শিশুদের অসুস্থ মনে হচ্ছে। তখন দ্রুত ছয়টি শিশুকেই এনআইসিইউতে নেয়া হয়। এর মধ্যে দুটি শিশু নেয়ার পথেই মারা যায় এবং বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রেখেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন