ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সায়েম ||

ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ হলো মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন‍্যতম, যা ত‍্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। এটি হিজরি বর্ষপঞ্জির ১২তম মাস জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয়।

পবিত্র কোরআনের সবচাইতে ছোট সুরা হলো সুরা আল - কাউসার। এটি পবিত্র কোরআনের ১০৮তম সুরা এবং ৩০তম পারায় অবস্হিত।

সুরা আল - কাউসার সম্পর্কে কিছু তথ্য: ◆ পবিত্র কোরআনের সবচাইতে ছোট সুরা। ◆ আয়াত সংখ্যা মাত্র ০৩টি। ◆ শব্দ সংখ্যা মাত্র ১০টি। ◆ রুকু মাত্র ০১টি। ◆ মাক্কী সুরা (মক্কায় অবতীর্ণ)।

এই সুরাটি দৈর্ঘ্যে সবচাইতে ছোট হলেও এর অর্থ অত্যন্ত গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ।

এই সুরার একটি আয়াত হলো: ফাসাল্লি লি রাব্বিকা ওয়ানহার।

অনুবাদ: অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।

প্রেক্ষাপট: এই আয়াতে মহান আল্লাহ্ তাহালা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে অগণিত নিয়ামত (কাউসার) দেওয়ার পর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ একমাত্র তাঁরই জন্য নামাজ ও কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গাতে আল্লাহ্ তাহালা বলেন: "আল্লাহর কাছে কোরবানির মাংস ও রক্ত পৌছায় না, বরং তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি) তাঁর কাছে পৌঁছে"।

এই আয়াতটি পবিত্র কোরআনের সুরা আল - হাজ্জ - এর ৩৭ নাম্বার আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

আয়াতটির মূল ভাব: ◆ আল্লাহ্ তাহালা কোরবানির পশু জবাইয়ের মাধ্যমে মূলত বান্দার অন্তরের তাকওয়া ও একনিষ্ঠতা পরীক্ষা করেন। ◆ রক্ত বা মাংস আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না, বরং কোরবানিদাতার আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতিই গৃহীত হয়। ◆ এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে কোরবানি শুধুমাত্র মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও ত‍্যাগের প্রতীক।

এছাড়াও পবিত্র কোরআনের ৩৭ নাম্বার সুরা আসসাফ্ফাতের ১০২ নাম্বার আয়াত থেকে ১১০ নাম্বার আয়াত পযর্ন্ত হযরত ইব্রাহীম (আঃ) স্বপ্নের মাধ্যমে হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে যবেহ করার বা কুরবানি করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্নণা নিম্নে দেওয়া হলো: অত:পর হযরত ইসমাঈল (আঃ) যখন তাঁর পিতার সাথে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলেন তখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) বললেন: হে আমার বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী ? পুত্র বললো: হে আব্বাজান আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। ইন শা আল্লাহ্ আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। যখন তাঁরা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলেন এবং পিতা পুত্রকে কাত করে শোয়ালেন। তখন আমি তাঁকে ডেকে বললাম হে ইব্রাহীম! আপনি তো স্বপ্নকে সত‍্যে পরিণত করে দেখালেন। আমি এভাবেই খাঁটি বান্দাদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আর আমি ইসমাঈলের পরিবর্তে দান করলাম এক মহান যবেহের বা কুরবানির প্রাণী। আর আমি ইব্রাহীমের আদর্শ পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিলাম। ইব্রাহীম (আঃ) এর উপর সালাম। এভাবেই আমি খাঁটি বান্দাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন