প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করলেই কি সব সমস্যা জাদুমন্ত্রের মতো সমাধান হয়ে যাবে

"যুক্তরাজ্যের বর্তমান অনেক সমস্যাই দীর্ঘমেয়াদী এবং কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়,

নজরুল ইসলাম ||

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক বিশাল জনসমর্থন (ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি) নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি কোনো আইনি বা সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

​একজন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা মূলত কয়েকটি দিকের ওপর নির্ভর করে। যদি জীবনযাত্রার ব্যয় (Cost of living) নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয় এবং মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে। নির্বাচনের সময় দেওয়া বড় কোনো প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসলে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পার্টির ভেতরে যদি বড় ধরনের নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রী যদি দলের নিয়ন্ত্রণ হারান। যদি বড় ধরনের কোনো নীতিগত নৈতিক স্খলন বা কেলেঙ্কারি সামনে আসে।

​কেন পদত্যাগ এই মুহূর্তে 'অযৌক্তিক' (পক্ষ যুক্তি) ​অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, স্টারমারের পদত্যাগ এই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক কারণ: তিনি সংসদের নিম্নকক্ষে (House of Commons) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আছেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের স্থায়িত্ব দেশের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। ​একটি নতুন সরকারের সংস্কারমূলক কাজের ফলাফল আসতে কয়েক বছর সময় লাগে। মাত্র এক-দেড় বছরের মাথায় পদত্যাগ করা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই মুহূর্তে বিরোধী দল বা নিজ দলের ভেতরে এমন কোনো বিকল্প নেতৃত্ব নেই যা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারে।

​ব্রিটেনে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীরা তখনই পদত্যাগ করেন যখন তারা পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের সম্মুখীন হন অথবা নিজ দলের সংসদ সদস্যদের আস্থা হারান (যেমনটি বরিস জনসন বা লিজ ট্রাসের ক্ষেত্রে হয়েছিল)। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ করার মতো কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বর্তমানে নেই। তবে ব্রিটিশ রাজনীতি অত্যন্ত গতিশীল; যদি অর্থনীতি বা জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো বড় বিপর্যয় ঘটে, তবেই কেবল নৈতিক কারণে বা দলীয় চাপে পদত্যাগের প্রশ্নটি "যুক্তিসঙ্গত" হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্যার স্টারমার প্রায়ই বলেন যে, তিনি "রাজনীতির চেয়ে দেশ সেবা" (Country first, party second) নীতিতে বিশ্বাসী। দীর্ঘ মেয়াদী পরিবর্তনের জন্য তাঁর এই প্রতিশ্রুতিগুলো ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে তাকে সহযোগিতা করাই হবে পজিটিভ রাজনীতির বার্তা।

ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, চিপ এডিটর -thesylhetpost #ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ওয়ার্কার #স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইউনিসন (আরএম

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন