পলাশবাড়ীতেশীতে পানের বরজে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ, বিপাকে কৃষক

220
gb

 

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা||

লাগাতার শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে পলাশবাড়ী উপজেলায় পান গাছে বিভিন্ন রকমের পচন রোগ দেখাদিয়েছে। চাষিরা জানান- পানের পাতাপচা ও পান গাছের গোড়াপচা রোগসহ নানা ধরনের রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ছে পানের বরজে। কুয়াশার কারণে পান গাছের পাতায় কালো দাগ ও হলুদ রঙ ধরেছে। শুকিয়ে যাচ্ছেপানপাতা। সেই সঙ্গে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে পান। স্থানীয় কৃষিঅফিসের পরামর্শক্রমে পান গাছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেওকোনও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার এসব পান বিক্রি করতে না পারায়আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন পান চাষিরা।উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শষ্যভান্ডার খ্যাতপলাশবাড়ী উপজেলায় মূলত আমন ও বোরা ধানের চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।সম্প্রতি পান চাষ লাভজনক হওয়ায় পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষকরা পান চাষেরদিকে ঝুঁকেছেন। উপজেলার জগরজানি, হিজলগাড়ী,কালুগাড়ী, শিমুলতলা,গোয়ালপাড়া গ্রামজুড়েই পানের চাষ করা হচ্ছে। এ কারণেএসব এলাকায় গড়ে উঠেছে অনেক পানের বরজ।উপজেলায় এ মৌসুমে ১৮ হেক্টর জমিতে পান চাষ করাহয়েছে।ঘাসুড়িয়া গ্রামের পানচাষি আব্দুর জব্বার বলেন, ‘এবার একবিঘা জমিতে পানের বরজ করেছিলাম কিন্তু তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণেপান গাছে রোগ বালাই হয়ে পুরো পানের বরজ শেষ হয়ে গেছে। বন্যায়একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও পানের বরজঠিক করলাম, সেই ধকলই এখনও কেটে উঠতে পারিনি, এর ওপর এবারে শীতেআমাদের পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেলো। শুধু মাচান দাঁড়িয়েরয়েছে।’পানচাষি মধু মিয়া জানান, ‘পান ক্ষেতে নানা রোগের আক্রমণ দেখাদিয়েছে। কোনও ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।গাছ থেকে পান ঝরে পড়ছে, পান পুড়ে যাচ্ছে। আমাদের খুব ক্ষতি হয়েগেলো। বিশেষ করে গত ১৫ থেকে ২০ দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েগেছে।’আরেকজন পানচাষি আলম জানান, ‘এবছরে পান চাষে আমাদেরদুই দফা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো। বন্যার কারণে প্রায় এক থেকেদেড়শ’ বিঘা জমির পানের বরজের মধ্যে পানি উঠে গিয়ে বরজের ক্ষতিহয়। এখন আবার শীত ও কুয়াশার কারণে গাছ থেকে পান ঝরে পড়ছে।ঠাণ্ডার কারণে পানের গাছ একবারে মরে যাচ্ছে।’এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম
বলেন, ‘ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে পানে সাধারনত ছত্রাকজনিত সমস্যাহয়; যেমন: পানে দাগ পড়ে ও গোড়াপচা রোগ হয়। এবার বেশি কুয়াশা ওশীত হওয়ার কারণে পলাশবাড়ী উপজেলাতেও পান গাছে বিভিন্ন ধরনেররোগ দেখা দেওয়ায় গাছ থেকে পান পাতা ঝড়ে পড়ছে। কিছুছত্রাকজনিত কালো দাগ হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে কৃষি অফিস থেকেনিয়মিত কৃষকদের ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।কার্বোন ড্রাইজিন অথবা ম্যানকোজিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করলে এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।