পিলখানা হত্যা মামলা হাইকোর্টে রায় ২৬ নভেম্বর

1,598
gb

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় (বিডিআর হত্যা মামলা হিসেবে পরিচিত) আগামী ২৬ নভেম্বর রায় দেবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে এ রায় ঘোষনা করা হবে।

আগামী ১২ নভেম্বর রায়ের তারিখ ঘোষনা করে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে ১২ নভেম্বরের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় মামলাটির রায় প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলাটি বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে যেকোনোদিন রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের করা ফৌজদারি আপিল ও ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে করা একটি আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৩ এপ্রিল রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখার আদেশ দেন হাইকোর্টের এ বৃহত্তর বেঞ্চ।

নিম্ন আদালত ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর এক রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং  ২৭৭ জনকে খালাস দেয়। এদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন। তবে হাইকোর্টে বিচারের শেষ পর্যায়ে ৫শ ৮৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের এ তিনটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে (পিলখানা) সংঘটিত ট্রাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এরপর ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। এরমধ্যে হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর রাজধানীর লালবাগের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিচার করা হয়।

বিচার শেষে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান। মামলার আসামি ছিল ৮শত ৪৬জন। এ মামলায় উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু (কারাগারে মৃত্যু), স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে আরও ২৫৬ জনকে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন ২৭৭ জন। রায়ের পর এ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন, পিন্টুসহ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২ জন এবং খালাস পাওয়াদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন।