মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহজুড়ে টাওয়ার হ্যামলেটস - এ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। ৪ থেকে ১০ মে পর্যন্ত উদযাপিত হচ্ছে মাতৃত্বকালীন মানসিক স্বাস্থ্য সপ্তাহ (ম্যাটারনাল মেন্টাল হেলথ উইক), আর ১১ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত চলছে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সপ্তাহ (মেন্টাল হেলথ এওয়ারনেস উইক)।
এ বছরের মূল বার্তা হলো ‘এ্যাকশন’ বা পদক্ষেপ নেওয়া - এর মানে নিজের জন্য, অন্যের জন্য এবং সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে ছোট ছোট হলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে “হেলদি টাওয়ার হ্যামলেটস” ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, এমন পাঁচটি প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। ক্যাম্পেইনটি শুধু তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষকে বাস্তব পরিবর্তনের দিকে উৎসাহিত করছে, যেন তারা নিজেদের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
এই ক্যাম্পেইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। এর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে যে লজ্জা বা ভুল ধারণা আছে, তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ক্যাম্পেইনের মুখ হিসেবে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ। সন্তান জন্মের পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করেছিলেন। তিনি জানান, সেই সময় তিনি জিপির মাধ্যমে থেরাপি গ্রহণ করেন, যা তাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, নিজের যত্ন নেওয়ার অংশ হিসেবে তিনি একটি ফিটনেস ক্লাসে যোগ দেন এবং এখন নিয়মিতভাবে প্রতি সপ্তাহে সেখানে অংশ নেন।
মমতাজের গল্প অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। এটি দেখায় যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা এবং সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।
এই দুই সপ্তাহের কার্যক্রম মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে মানসিক স্বাস্থ্য সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট পদক্ষেপ, যেমন কারও সাথে কথা বলা, সাহায্য চাওয়া বা নিজের জন্য সময় বের করা, বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
ভিডিওটি দেখতে হলে ভিজিট করুনঃ www.youtube.com/watch?v=PuNqsOsoIXE
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার এবং সমাজও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন