মায়ানমারের বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণের অভিযোগে ভারতে ৭ বিদেশি গ্রেপ্তার

gbn

ভারতের তদন্তকারীরা প্রতিবেশী মায়ানমারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সন্দেহে ছয়জন ইউক্রেনীয় ও একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে বলে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বেতার জানিয়েছে।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা ক্ষমতা দখলের পর মায়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়, যেখানে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারের কিছু গোষ্ঠী নিয়ে সন্দিহান, যাদের জাতিগত পরিচয় সীমান্তের ভারতীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে সহিংসতা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করে।

 

অল ইন্ডিয়া রেডিও (এআইআর) জানিয়েছে, সোমবার নয়াদিল্লির একটি আদালত সাত বিদেশিকে ১১ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পাঠায়, কারণ তারা সরকারি অনুমতি ছাড়াই সংবেদনশীল মিজোরাম রাজ্যে প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে তারা মিজোরাম থেকে মায়ানমারে প্রবেশ করে, যেখানে তারা ‘ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতিগত যুদ্ধগোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল’ বলে এআইআর জানিয়েছে।

এছাড়া ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন অবৈধভাবে ভারতে এনে মায়ানমারে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, যদিও ড্রোনের ধরন বা উৎস দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

ভারতে ফিরে আসার পর ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) দিল্লি ও লখনউ শহর থেকে ইউক্রেনীয়দের এবং কলকাতা থেকে মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নাগরিকদের ১৩ মার্চ ভারতে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জন্য ‘নিরবচ্ছিন্ন কনস্যুলার প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘এই মুহূর্তে উল্লিখিত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভারত বা মায়ানমারে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।’

নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, তবে ‘গোপনীয়তার কারণে মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে পারে না।

 

গত বছর মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ‘হাজার হাজার’ পশ্চিমা ভাড়াটে যোদ্ধা এই রাজ্য হয়ে মায়ানমারে প্রবেশ করেছে, যদিও এই দাবি যাচাই করা কঠিন।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন