ব্যক্তির মৃত্যু, আদর্শের নয়

gbn

মুসলিমদের আত্মরক্ষার অধিকারকেও যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে প্রচার করছে ওদের প্রতি ঘৃণা ও নিন্দা

রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।  

ধরে নিলাম কিংবা নিশ্চিত হলাম, খোমেনি বেঁচে নাই। তাতেই বা কী? খোমেনি চিরকাল বেঁচে থাকবে? পারস্য সভ্যতা সহস্র খোমেনিকে জন্ম দিয়েছে, ধারণ করছে। ইতিহাসে ইসলামের ঝান্ডাধারী হয়ে অতীতেই হারিয়ে গেছে ওমর ইবনে খত্তাব, হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব, আলী ইবনে আবি তালিব, খালিদ বিন ওয়ালিদ, সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী, মোহাম্মদ বিন কাসিম, সুলতান মাহমুদ গজনবি, সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজি, সম্রাট বাবর, উসমান গাজী কিংবা টিপু সুলতানের মতো বীরগণ। তাতে থেমে আছে ইসলামের গতিপথ? সত্য চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। ইসলাম থাকবে। মুসলিম বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই করে ঈমান নিয়েই টিকে থাকবে। মৃত্যুও যাদের কাছে মর্যাদার তারা কখনোই কাপুরুষের মতে বেঁচে থাকতে চায় না।

 

চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে মুসলমান জাতি চিনে রাখবে ইসলামের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা মুনাফিকদেরকে। কারা শত্রুর সাথে গলাগলি করেছিল, কারা ইরান-ফিলিস্তিনের মাসুম শিশুদের বুকে মেরেছিল তীর- ইতিহাসের পাতা থেকে সেই দাগ মুছবে না। তারা আশায় বসে থাকবে ইমাম মাহদির আগমনের। এক ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে সমস্ত কুফর বিশ্ব যে জুলুম অত্যাচার চালিয়েছে তা মোকাবিলা করেও টিকে আছে ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা। তাদের ইমান আরও মজবুত হচ্ছে। তারা দোয়া পাচ্ছে সমগ্র বিশ্ববাসীর। ইসলামের যারা শত্রু তারা সত্যের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পশ্চিমা শাসকদের উপাধি হয়েছে মিথ্যার রাজা। নিরীহ নারী-শিশুদের ওপর যারা যতটা অবিচার করে তাদেরকে সেটার পরিণাম ভোগ করতে হয়। কেউ রক্ষা পাবে না- না শক্তিমান, না দুর্বল।

 

মুসলিমদের আত্মরক্ষার অধিকারকেও যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে প্রচার করছে ওদের প্রতি ঘৃণা ও নিন্দা। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ আজ না হোক কাল শেষ হবে। হয়তো ইরান পরাজিত হবে। তবে  ভস্মীভূত পারস্যের ছাই থেকে আবার জন্ম নেবে বিপ্লবের রুহ। খোমেনিকে হত্যা করতে, ইরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে ইসরাইল-আমেরিকা গং মিত্রদের যে আগ্রাসন তা ইতিহাসের পাতায় অন্যায্য হিসেবেই খোদাই হয়ে থাকবে। দেশের মধ্যের যে গাদ্দাররা ক্ষমতার লোভে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়েছে তাদের পরিণাম আরও ভয়ঙ্কর হবে। নেতানিয়াহুর শয়তানসুলভ কর্মকান্ড এবং ট্রাম্পের মানসিক বিকৃতির যে খেসারত বর্তমানে ইরান-ফিলিস্তিন দিচ্ছে তা এপারে না হোক ওপারে ফয়সালা হবে। মানুষের বিবেক বলে যে আদালত পাড়া আছে সেখানে হকের শত্রুপক্ষ দোষী সাব্যস্ত হয়েই আছে। কেবল রায় ঘোষণা বাকি। 

 

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ও ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়েছে মুসলিম বিশ্বের কতিপয় ধ্বজাধারী নেতা। লানত তাদের প্রতি। কেবল ক্ষমতার জন্য যারা বাতিলের কাছে মাথানত করে, জুলুমের সমর্থনকারী হয় তবে সেই ক্ষমতা তাদেরকেও শেকলবদ্ধ করে শাস্তির মুখোমুখি করবে। বিশ্বের বুকে যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, মিঠা মিঠা স্বরে অবিচারের পক্ষে বলে তারাও আজকে একটা পক্ষ এবং সেটা মুসলিমদের বিরুদ্ধেই। ফিলিস্তিনকে ধ্বংসের সময় তারা চুপ থাকে। ইরানকে হামলার সময় সমর্থন জানায়। তাদের কাছে শত্রুপক্ষের নিষ্পাপ শিশুদের, নিরীহ নারীদের জীবনের চার আনা মূল্য নাই। রক্ত ও অশ্রুর একফোঁটা দাম নাই। অথচ মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষা  নিয়ে বিশ্বাব্যাপী তাদের ন্যাকামিরও অন্ত নাই।

 

যুদ্ধ একদিন থামবে। ধ্বংস স্তুপের ছাই বয়ে চলা বাতাসকে জানাবে ইতিহাসের বয়ান। স্বার্থ ও ক্ষমতার জন্য এহেন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এভাবে মানুষ হত্যা করা যায়, দেশ ধ্বংস করা যায়? পৃথিবীতে আজও তবে অসভ্যদের হাতেই ক্ষমতা। খোমেনির বেঁচে থাকা কিংবা না থাকায় সত্যের লাভ-লোকসানের হিসাব জড়িত না। মানুষ মরে, আদর্শ মরে না। সত্য নিজেই একটা পক্ষ। সেই পক্ষে সাময়িক সময়জুড়ে হলেও ফিলিস্তিন এবং ইরান ছিল। কিন্তু মধ্য প্রচ্যের সেই সব দেশ, সেই শাসকেরা আল্লাহর কাছে কী কৈফিয়ত দেবে? বাঁচার লোভে যারা বিড়ালের জীবনধারণ করে তাদেরকে বীরের পক্ষ দেওয়া যায় না। কাপুরুষদের ইতিহাস তাদের জীবনে পরিহাস হয়েই ফিরবে। পশ্চিমা বর্বরদের শত্রু লাগবে। ইরানের পরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নতুন শত্রু যারা হবে তাদের ধ্বংসে হাততালি দেবো। ভাইয়ের বিপদে যে চুপ থাকে, নিজের বিপদে সে কাউকেই পাশে পাবে না। 

 

সত্য-মিথ্যার ধার না ধরেও পশ্চিমাদের যুদ্ধ করতেই হবে। যুদ্ধটাই তাদের ব্যবসা, রুটি-রুজির সংস্থান। উৎপাদিত অস্ত্র বিক্রি করতে হবে। বারুদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই সেগুলো প্রয়োগ করতে হবে। আজ ইরান যে মিসাইল সামলাচ্ছে তা একদিন সৌদি, কাতার এবং কুয়েতের আকাশেও উড়বে। পশ্চিমাদের স্থায়ী কোনো বন্ধু নাই। তাদের বন্ধুত্ব নির্ধারিত হয় স্বার্থে। ইরাক, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠী এককালে তাদের বন্ধুই ছিল। স্বার্থ ফুরাতেই প্রায় সবাইকে ধ্বংস করে দিয়েছে। 

 

বিশ্লেষকদের মতে, ওসামা বিন লাদেনকে তারাই সৃষ্টি করেছিল এবং বহু নাটকীয়তার পরে তারাই ধ্বংস করেছে। এখন ফিলিস্তিনে, ইরানে। এখানেই থেমে যাওয়া নয়। তারপরেও তো আছে। ধৈর্য ধরো চুপ থাকা মোনাফেক। বারুদের ভাগ তোমরাও পাবে। এখনও যদি বিচ্ছিন্ন বিভক্ত থাকো তবে তোমাদেরও সেই পরিণতি হবে যে পরিণতিতে আজকের ইরান। ইরানীয়দের মেরুদণ্ড শক্ত। তারা অন্তত কিছুদিন লড়াই করতে পারবে। শত্রুর চোখে চোখ রেখে ভয় ধরাতে পারবে। তোমাদের আছে কী? শত্রুর কাছ থেকে কিনে আনা অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করা যায় না। সেগুলো কেবল প্রদর্শনীতে শোভা বাড়ায়! প্রয়োজনের সময় রক্ষাকারী হয় না।

 

 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন