মিউনিখ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ জার্মানি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

75
gb

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জার্মানি সফরে যাচ্ছেন। মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের আমন্ত্রণে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠেয় ৫৫তম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে সেখানে যাচ্ছেন তিনি।

আগামীকাল থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ২৫ জনের বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেবেন। সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া সফরে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। ফিরতি পথে প্রধানমন্ত্রী ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন।

টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। জার্মান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর উপলক্ষে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, এ সম্মেলনে আলোচনার মধ্য দিয়ে নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, মেরুকরণের মাত্রা ও প্রবণতা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

এছাড়া জলবায়ুসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অর্জন ও সাফল্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা যাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সম্মেলনে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা করব। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আরব আমিরাত সফর মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ সফরে যাচ্ছেন। প্রধামন্ত্রী ‘জলবায়ু পরিবর্তন নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ’ এবং হেলথ সিকিউরিটি সংক্রান্ত সেশনে সম্মানিত প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

এসব সেশনে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনায় বিশ্বের দেশগুলোর প্রাপ্তি, বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, উদ্বাস্তু ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিউনিখ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মান চ্যান্সেলর ড. অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিমেন্সের সিইও এবং বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মানভিত্তিক কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচের সিইওর পৃথক বৈঠক হতে পারে। সিমেন্স বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ সংক্রান্ত চুক্তি হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, জার্মান থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন। দেশটির উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে তিনি ওই দেশে সফরে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং এক্সিবিশন প্রদর্শন করবেন। তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন।

এ সফরে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও আরব আমিরাতের ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার শেখ মুহাম্মদ বিন যায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য দুবাই এক্সপোতে বাংলাদেশ বৃহত্তর পরিসরে অংশ নেবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করা প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সফরকালে এলএনজি ও মাতারবাড়ি এলাকায় অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ২০ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More