সংসদে যোগ না দেয়া রাজনৈতিক ভুল

প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে সংসদে আসার আহ্বান * গ্রামের টান কখনও মুছে যায়নি, মুছে যাবে না * প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিমার্জন করা হবে * গত ১০ বছরে ২৪ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে * সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

33

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, যারা অল্প আসন পেয়ে অভিমান করে সংসদে আসছেন না, এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। সংসদে এলে তারা কথা বলার সুযোগ পাবেন। সংসদ টিভি আছে, যা নানা দেশের মানুষ দেখেন। এ সুযোগ তারা কেন হারাচ্ছেন, তা আমি জানি না।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে ফখরুল ইমাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব দলের সঙ্গে বৈঠক করে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করলেন যে, এই দেশে একটা সুন্দর, সুষ্ঠু ইলেকশন হল। যে ইলেকশনের জন্য আমরা ৯৭টি দেশের স্বীকৃতি পেয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, যারা ৭টি সিট নিয়ে এখনও সংসদের বাইরে অপেক্ষা করছে, তাদের প্রতি আপনার বার্তা কি? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছে বলে অভিমানে পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে হয় এটা তাদের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে যারাই নির্বাচিত সদস্য, তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন আমি এটাই আশা করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চেয়েছি সম্মিলিতভাবে দেশটা গড়ে তুলব। তাই আমি নির্বাচনের আগে সব দলকে ডেকেছিলাম, সুন্দর পরিবেশে বৈঠক করেছি এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

সংসদ নেতা বলেন, এই ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নের সুফল দেশের জনগণ পেয়েছে। এ জন্য তারা অনেক আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। জনগণ সেই ভোট দিয়েছে। এখন যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছে বলে অভিমানে পার্লামেন্টে আসছেন না; আমার মনে হয়, এটা তাদের একটা রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ, ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই তারা দিয়েছে। যদি তারা সংসদে আসে, তাদের যদি কোনো কথা থাকে, তাহলে তারা সেই কথা বলার সুযোগ পাবে, আর এ সুযোগটা শুধু পার্লামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যেহেতু সরাসরি মিডিয়ায় যায় এবং সংসদ টিভিও আছে, তার মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পারবে। এই সুযোগটা তারা কেন হারাচ্ছেন, আমি জানি না। আমার আহ্বান থাকবে, যারাই নির্বাচিত সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন এটাই আমি আশা করি।

কেন গ্রামে থাকতে চান, বললেন প্রধানমন্ত্রী : ফখরুল ইমামেরই আরেক প্রশ্নের জবাবে কেনো গ্রামে থাকতে চান সে কথা সংসদে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যে গ্রামে জন্মেছি ও বেড়ে উঠেছি সে গ্রামের স্মৃতি বড় মধুর। গ্রামের কাদামাটি মেখে বড় হয়েছি। এ স্মৃতি কোনোদিন ভোলা যায় না, মোছা যায় না। গ্রামের নির্মল বাতাস এখনও আমাকে টানে। ইট-পাথরের এই নগরী আর ভালো লাগে না। গ্রামের নির্মল বায়ু, খোলা আকাশ। প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেয়া যায়। এ কারণে অবসরে গ্রামে থাকা আমার খুব আকাক্সক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে আমাদের গ্রাম আমাদের প্রাণ। গ্রামের মানুষদের আমরা যেমন নাগরিক সুবিধা দিতে চাই, অবস্থা একটু ভালো হলেই সবাই গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসতে চাই, এটা আমার পছন্দ না। আমি ছোটবেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি বড় হয়েছি গ্রামের কাদামাটিতে। খালে ঝাঁপ দিয়ে, গাছে উঠে নানাভাবে খেলাধুলা করেই গ্রামে বড় হয়েছি। হয়তো একটা পর্যায়ে চলে এসেছি । কিন্তু গ্রামের টান কখনও মুছে যায়নি। মুছে যাবে না। এখনও মনটা পড়ে থাকে প্রিয় গ্রামে। সবসময় একটা আকাঙ্ক্ষ যখন আমি অবসর নেব তখনই গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকব। শেখ হাসিনা বলেন, সবুজ শ্যামল সুন্দর পরিবেশ সবসময় আমাকে টানে। কাজেই আমার একটা ইচ্ছা আমি মনে করি গ্রামের নির্মল বাতাস, সুন্দর পরিবেশ এটা মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই অনেক সুস্থ রাখে। মন ভালো থাকে। শহরের ইট-কাঠের বদ্ধ আবহাওয়া পরিবেশ থেকে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশটা সব সময় আমাকে টানে।

ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান এবং ওআইসির নেতারাসহ প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আমাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৯৭টি দেশের জনগণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। এসব বার্তা পেয়ে দেশবাসীর সঙ্গে আমিও গর্বিত ও আনন্দিত। বিশ্বনেতারা আমাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে তারা বাংলাদেশকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। এ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাব। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্র তৈরি করতে না পারে : মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছে। তবে আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে। কুচক্রী মহল যাতে কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্র তৈরি করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর।

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রতিজ্ঞ : মাহমুদ সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, দেশব্যাপী সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদেরও সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ : মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ইশতেহারের অন্যতম বিষয় তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। বিগত ১০ বছরে যুবকদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ অবারিত করতে আমাদের সরকার সম্ভাব্য সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা, অনুদান ও কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুবসমাজকে শিক্ষিত, দক্ষ, কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১টি জেলায় নতুন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। গত ১০ বছরে ২৪ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিমার্জন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিমার্জন করা হবে। মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরবর্তী বছর থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে ছাপানো বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুনভাবে চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম নতুনভাবে চালুর লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মনোযোগী করার লক্ষ্যে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকসহ ৭ হাজার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য ৭ দিনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষককে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট স্কটল্যান্ডে মাস্টার্স কোর্সের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ হাজার ৪৭৫ জন প্রধান শিক্ষককে লিডারশিপ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। শ্রেণীকক্ষে ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে পাঠদানের বিষয়ে ১০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৬ হাজার ২শ’ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক এবং ১২ হাজার ৭৫০ জন সহকারী শিক্ষককে ইনডাকশন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে ৬২ হাজার ৬৭০ জন শিক্ষককে ‘কমপিটেন্সি বেজড আইটেমস ডেভেলপমেন্ট, মার্কিং অ্যান্ড টেস্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মার্কার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, এ ছাড়াও উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা শিক্ষকদের মানোন্নয়নে ও অধিকতর দায়িত্ব নিয়ে পাঠদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়বস্তু বিজ্ঞান বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তকের ব্যবহার সহজ ও আকর্ষণীয় করার জন্য ২১টি পাঠ্যপুস্তকের ‘ডিজিটাল কনটেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি (চাকমা, মারমা, সাদরি, ত্রিপুরা ও গারো) ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী) পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য সহায়ক সামগ্রী হিসেবে শিক্ষক নির্দেশিকা ও শিক্ষক সংস্করণ প্রণয়ন করে সারা দেশে বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা ও ক্লাস রুটিন প্রণয়ন করে স্কুল পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

টাওয়ার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বললেন জ্যাকবকে : সংসদ অধিবেশনে প্রতি বুধবার প্রথম ৩০ মিনিট সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত থাকে। এ সময়ে তিনি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়ে থাকেন। সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব সুযোগ পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্পূরক প্রশ্ন করেন। এ সময় নিজ এলাকা ভোলার বিশদ বিবরণ দিতে থাকেন। এ জন্য স্পিকার তাকে দুই দফা সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেন এবং সম্পূরক প্রশ্ন করার কথা বলেন। এরপরও বর্ণনা দিতে থাকেন জ্যাকব পরে স্পিকার দুঃখিত বলে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নটি সম্পূরক না, এলাকাভিত্তিক।

জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আসলে উনি ভোলার বিবরণ দিতে চাচ্ছিলেন। যখনই যে সরকার এসেছে, ভোলা কিন্তু কেউ না কেউ মন্ত্রী থেকেছে। আর ভোলার উন্নয়ন হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি সংসদ সদস্য যে এলাকার কথা বলছেন, ওখানে কিন্তু জ্যাকব টাওয়ার হয়ে গেছে। কাজেই আমার মনে হয়, জ্যাকব টাওয়ার দেখতে বহু লোক যায়। আমার মনে হয় এখানেই উনার সন্তুষ্ট থাকা উচিত।

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More