মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস স্মরণে লন্ডনে একুশের প্রভাতফেরি অনুষ্ঠিত

gbn

জামাল আহমদ খান//
সমতা ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় একুশ সকল গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের আলোকবর্তিকা।

বিলেতে বেড়ে উঠা নতুন বাংলাদেশী প্রজন্মকে একুশের গৌরবোউজ্জ্বল সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ে লন্ডনে একুশের প্রভাতফেরি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। 
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় একুশের প্রভাতফেরী আয়োজন পরিষদ যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে আলতাব আলি পার্কে এ প্রভাতফেরী অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে শহিদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আয়োজন পরিষদের আহবায়ক ডাক্তার আশফাক আহমদ। এ সময় তিনি বলেন একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মহান একটি দিবস। জাতিগতভাবে আমরা দিবসটি পালন করি। এটি আমাদের এক জাতীয় পরিচয়। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম একুশের চেতনার মধ্যে রোপিত হয়েছিল। বাংলাদেশ সৃষ্টির মধ্যে একুশের চেতনা অপরিসীম। ২১ না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন একুশের প্রভাতফেরী আমাদের গৌরবোউজ্জ্বল সংগ্রামের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। বিলেতের মাটিতে প্রভাতফেরী মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস বিশ্ব দরবারে জানান দেওয়ার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে তিনি মনে করেন। প্রভাতফেরি পরবর্তী সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আয়োজন পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ইফতেখারুল হক পপলু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য সচিব সেলিনা শফি। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, রাজনীতিবিদ আবেদ আলী আবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌস সুলতান, ডাক্তার রফিকুল হাসান খান জিন্নাহ, ডাক্তার আমিনা সদর উদ্দিন, সাবেক স্পিকার মোহাম্মদ আহবাব হোসেন, নিলু হাসান, মুজিবুল হক মনি, শেখ নুরুল ইসলাম, গোপাল দাস, শাহিদ আলী, জামাল আহমদ খান,শাহরিয়ার বিন আলী, স্মৃতি আজাদ, শাহানা আক্তার, অসীমা দে, বাবলু দে,আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের ছেলে ওমর রাসেল, পুত্রবধূ ইশরা রাসেল, রুবেন রাসেল , দিয়ানো রাসেল, সাইফুল ইসলাম খান, তানভীর ইলিয়াস, নাবিলা নওশাদ শ্রাবণী প্রমুখ। 
টানা ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরের প্রভাতফেরিতে ও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সহ প্রগতিশীল রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ শিশু কিশোররা। 

 


প্রভাতফেরি শেষে নজরুল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিশু কিশোর অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাজ্য সংসদ ও সত্যেন সেন স্কুল অফ পারফর্মিং আর্টস ভাষা আন্দোলনের সমৃদ্ধ ইতিহাসের উপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কে ভুলিতে পারি গানটির মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে চলে। শেষ হয় আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য বিলেতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এবং অপরাপর ভাষাভাষী মানুষের মাঝে অমর একুশের গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর লন্ডনে প্রভাতফেরি অনুষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের আহবানে লন্ডনে ক্রিয়াশীল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে উঠে একুশের প্রভাতফেরি আয়োজন পরিষদ যুক্তরাজ্য।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন