স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড ও জরিমানা

269
gb

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্ত্রী সালমা খাতুনকে হত্যার দায়ে স্বামী কামরুল ঢালীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ ও ৫০ হাজার জরিমানা করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল। বৃহস্পতিবার দুপরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক মোছাঃ হোসনে আরা আক্তার এ রায় প্রদান করেন। একই সাথে এ মমালায় বাকী তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
এদিকে, এ ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামরুল ঢালী দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতের জামিনে থাকার পর আজ কোর্টে হাজিরা দেওয়ার পর রায় বিপক্ষে যাবে বুঝতে পেরে আদালত চত্বর থেকে সটকে পড়ে।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী কামরুল ঢালী (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের মৃত বাক্কার ঢালীর ছেলে।
এ মামলার খালাস প্রাপ্ত আসামীরা হল, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত কামরুল ঢালীর বোন মলিদা খাতুন,ভগ্নিপতি নাজির গাজী ও চাচাতো ভাই মাহমুদ ঢালী।
মামলার বিবরণে জানা যায়,শ্যামনগর উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের সুন্নত আলী মোল্যার মেয়ে সালমা খাতনের সাথে ২০০৫ সালে একই উপজেলা মীরগাং গ্রামের কামরুল ঢালীর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে কামরুল ঢালী তার শ্বশুর বাড়ি ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কাঠের তৈরী নৌকা নেয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এর পরও প্রায়ই কামরুল ঢালী তার স্ত্রীকে য়ৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করতো। এরই জের ধরে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই দুপুরে কামরুল ঢালী তার স্ত্রীকে ঘরের হাক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রী সালমা খাতুনের মুখে শাড়ি ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। পরে, নিহতের স্বামী কামরুল ঢালীর দেয়া তথ্য মতে ওই দিনই শ্যামনগর থানায় ২২/৯ নম্বর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। যার তদন্ত দেয়া হয় পি এসআই শেখ ওহিদুজ্জামানের উপর। এদিকে, সালমা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাই রাশেদুল মোল্যা বাদী হয়ে প্রথমে কোর্টে ও পরে একই বছরের অক্টোবর মাসের ২ তারিখে শ্যামনগর থানায় নিহতের স্বামী কামরুল ঢালীকে প্রধান আসামী করে চার জনের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় শ্যামনগর থানার এস আই অমিনা রানী দাসকে। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১০ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী এ মামলায় চার আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
মামলার নথি ও ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে বিচারক আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ মামলার এক নম্বর আসামী কামরুল ঢালীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ্বন্ড কার্যকর করার আদেশ ও ৫০ হাজার জরিমানা করেন। অপরদিকে, নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় বাকী তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিক। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার। তিনি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।