চারিদিকে মৌ মৌ গন্ধ আর হলুদ ফুলের সমাহার পাইকগাছায় ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ; ভাল ফলনের সম্ভাবনা

689
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা ||
পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। রোগবালাইয়ের প্রকোপ না থাকায় ভাল ফলন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও চাষীরা। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ক্ষেতের সরিষা গাছে ফল ধারণ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে ৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মৌসুমের শুরুতেই মাটিতে জো না থাকায় এবং ধানের দাম ভাল হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হেক্টর কম জমিতে কৃষকরা সরিষার আবাদ করেছে। আবাদকৃত ৭৫ হেক্টরের মধ্যে ৭০ হেক্টর উফসী ও ৫ হেক্টর স্থানীয় জাতের। যার মধ্যে হরিঢালী ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, কপিলমুনিতে ১৫ হেক্টর, রাড়–লীতে ২০ হেক্টর, গদাইপুর ১০ হেক্টর, গড়ইখালী ৪ হেক্টর, চাঁদখালী ৩ হেক্টর, দেলুটি ২ হেক্টর, লতা ২ হেক্টর, সোলাদানা ২ হেক্টর, লস্কর ১ হেক্টর ও পৌরসভায় ১ হেক্টর। সরিষার ক্ষেত গুলোতে এখন মৌ মৌ গন্ধ আর হলুদ ফুলের সমাহার। হলুদ ফুল যেন চারিদিকে করে তুলেছে আলোকিত। অনেকেই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নেমে পড়ছেন সরিষার ক্ষেতে। উপভোগ করছেন হলুদ সৌন্দের্যের সমাহার। অনেকেই আবার ক্যামেরায় ধারণ করছেন সরিষা ক্ষেতের অপরূপ সৌন্দর্য। সবমিলিয়েই এখনো পর্যন্ত রোগবালাইয়ের তেমন কোন প্রকোপ না থাকায় এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা। মালথ গ্রামের মৃত শের আলী মোড়লের ছেলে কৃষক রফিকুল ইসলাম মোড়ল জানান, এ বছর আমি প্রায় ২ বিঘা জমিতে স্থানীয় ও উফসী জাতের সরিষার আবাদ করেছি। শেষ মুহূর্তে যদি রোগবালাইয়ের তেমন কোন আক্রমন না হয় তাহলে ভাল ফলন হবে বলে আশা করছি। উপজেল কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলায় চাহিদার তুলনায় সরিষার আবাদ অনেক কম হয়। এলাকার কৃষকরা উৎপাদিত সরিষা নিজেদের কাজেই ব্যবহার করে থাকেন। এ বছর ধানের দাম একটু চড়া থাকায় অনেকেই শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করে বোরো আবাদ করেছেন। এ জন্য লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে একটু কমজমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিগত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদন ভাল হবে বলে আশা করছি।