নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদপ্রার্থী হেলাল শেখের ফান্ডরেজিং ডিনার : এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া মানে বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়া

117
gb

হাকিকুল ইসলাম খোকন ||

বাংলাদেশী কমিউনিটিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আসন্ন স্পেশাল নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে প্রার্থী  হেলাল আবু শেখের ফান্ডরেজিং ডিনার। নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি হলে উৎসবমুখর পরিবেশে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে এ ফান্ডরেজিং ডিনার অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় স্পেশাল নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে হেলাল শেখই একমাত্র সাউথ এশিয়ান এবং মুসলমান প্রার্থী।
মূলধারা ও কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এ ফান্ডরেজিং ডিনারে বাংলাদেশী কমিউনিটিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে কমিউনিটির সেবায় নিজকে উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রার্থী হেলাল শেখ।

সাউথ এশিয়ান ফর হেলাল শেখনির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান কামাল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আসেফ বারী টুটুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মেম্বার সেক্রেটারী মোহাম্মদ এন মজুমদার, এডভাইজারী কমিটির চেয়ার নার্গিস আহমেদ, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক-জেবিবিএর সভাপতি শাহ নেওয়াজ, বাংলাদেশ সোসাইটির সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, ওয়েল কেয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার সালেহ আহমেদ, ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সাবেক স্টেট এসেম্বলীম্যান এরিক এ স্টেভেনসন, ডা. জুন্নুন চৌধুরী, ডা. আব্দুল হামিদ, ইউএসএ বালাদেশী অর্গানাইজেশন ইনক্রে সভাপতি ইকবাল আহমেদ মাহবুব, মূলধারার সংগঠক ফাহাদ সোলায়মান, সাপ্তাহিক বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক  আবু তাহের, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আবদুর রব, মঈনুল ইসলাম, আহসান হাবিব, আব্দুল মজিদ, কামাল হোসেন প্রমুখ। 30/35 Rb প্রবাসী বাংলাদেশী এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ফান্ডরেজিং ডিনারে হেলাল আবু শেখকে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান পাবলিক এডভোকেট হিসেবে নির্বাচিত করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সিটি ওয়াইড মর্যাদাপূর্ণ এ নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে হেলাল শেখের নাম ব্যালটে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে প্রাথমিক বিজয় এসেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সকলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলে চূড়ান্ত বিজয় আসবে।
ফান্ডরেজিং ডিনারে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদপ্রার্থী  হেলাল আবু শেখ তাকে সমর্থনের জন্য তিনি বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি সবসময় বাংলাদেশীসহ ইমিগ্র্যান্টদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুন:ব্যক্ত করে বলেন, পাবলিক স্কুলে মুসলমান ছাত্রদের জন্য হালাল খাবার সরবরাহসহ বাংলাদেশী কমিউনিটিসহ ইমিগ্রেন্টদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া আদায়ে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
হেলাল শেখ  বলেন, পাবলিক এডভোকেট হিসেবে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের কন্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। নির্বাচনে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমি আপনাদের নিয়ে গড়ে তুলতে চাই একটি সুন্দর কমিউনিটি। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ। কমিউনিটির অধিকার আদায়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।
২৬ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে হেলাল শেখ বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৯০ হাজার বাংলাদেশী-আমেরিকান রেজিট্রার্ড ভোটার রয়েছেন। তাদের অন্তত অর্ধেক ভোটার কেন্দ্রে গেলেই তার বিজয় সুনিশ্চিত। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে মাত্র ১০/১২ হাজার ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। এ ধরণের সুযোগ সব সময় আসে না। হেলাল শেখ বাংলাদেশী-আমেরিকান ভোটাদের কেন্দ্রে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, এ নির্বাচন ব্যক্তি হেলাল শেখের নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন বাংলাদেশীদের বিজয়ী হওয়ার নির্বাচন। মর্যাদাপূর্ণ এ নির্বাচনে আমি বিজয়ী হওয়া মানে বাংলাদেশী কমিউনিটি বিজয়ী হওয়া। বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়া।
বক্তারা বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে বহু বাংলাদেশির বসবাস। অথচ এখন পর্যন্ত সিটি কিংবা স্টেটে একজনকেও নির্বাচিত করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি না। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বক্তারা বলেন, এবার সিটি ওয়াইড নির্বাচনে একটা সুযোগ তৈরী হয়েছে। আর সে সুযোগ এনে দিলেন আমাদের হেলাল শেখ। বাংলাদেশী কমিউনিটিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বক্তারা বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে হেলাল শেখের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তার বিজয়। নির্বাচিত হলে তিনি সিটি পাবলিক এডভোকেট হিসেবে বাংলাদেশী কমিউনিটির অধিকার আদায়ে জোরালো ভূমিকা রাখবেন। সে অধিকারের জন্যে প্রয়োজন সকলের সচেতনতা। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে হেলাল শেখকে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান পাবলিক এডভোকেট হিসেবে নির্বাচিত করে বাংলাদেশী কমিউনিটির অধিকার আদায়ে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে হেলাল শেখের পাশে দাঁড়ালে তার বিজয় সুনিশ্চিত। তারা বলেন, আমরা ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকল্পে পাবলিক এডভোকেট পদে হেলাল শেখকে বিজয়ী করতে চাই। বাংলাদেশী-আমেরিকান ভোটাররা কেন্দ্রে গেলেই তার বিজয় সুনিশ্চিত।
উল্লেখ্য, হেলাল আবু শেখ ২০১৩ সালে নিউইয়র্কে ডিস্ট্রিক্ট ৩৭ ব্রুকলীন এবং ২০১৭ সালে ডিস্ট্রিক্ট ৩২ কুইন্স থেকে কাউন্সিলম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। সে নির্বাচনে দক্ষিণ এশিয়ানদের মাঝে ব্যাপক সাড়া অর্জন করতে সক্ষম হন। গড়ে তোলেন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নিউইয়র্ক সিটিতে দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করলেও এখন পর্যন্ত একজনও সিটি কাউন্সিল, স্টেট এসেম্বলী কিংবা সিনেটে জয়ী হতে পারেন নি।
সিলেটের বিশ্বনাথের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট তজম্মুল আলীর সন্তান হেলাল আবু শেখ ১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী হন। তিনি নিউইয়র্ক সিটি কলেজ অব টেনোলজি থেকে কম্পিউটার ইনফরমেশন বিষয়ে ব্যাচেলর করেন। এ কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যে সর্ব প্রথম স্টুডেন্ট গভর্ণমেন্ট এসোসিয়েশনের ভিপি নির্বাচিত হন। পরে ব্রুকলীন কলেজ থেকে গণিতে মাস্টার্স করেন। এর পর নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশনের অধীনে পাবলিক স্কুল শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। ২০১৩ সালে সিটি কাউন্সিলম্যান পদে নির্বাচনের প্রাক্কালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন তিন সন্তানের জনক হেলাল শেখ। সে থেকে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। হেলাল আবু শেখের স্ত্রী ডা. তানিয়া মুকিত শেখ ব্রঙ্কসের মন্টিফিয়ার হসপিটালের এটেন্ডিং ফিজিশিয়ান।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট ছিলেন লেটিসা জেমস। গত নভেম্বরের  নির্বাচনে তিনি নিউইয়ক স্টেট এটর্নী জেনারেল হিসেবে জয়ী হওয়ায় এই শূন্য পদে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More