পাটকল বন্ধ ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি : ন্যাপ

রাষ্ট্রায়ত্ত সকল পাটকল বন্ধ ঘোষণা সরকারী সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী, দায়িত্বহীন ও আত্মঘাতী। পাট কল বন্ধে অতিতে সরকারগুলোর পথ অনুস্মরন করে রাষ্ট্রয়াত্ত পাটকল বন্ধে বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা গণবিরোধী অবস্থানেরই বহি:প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

শনিবার (৪ জুলাই) পাটকল বন্ধে সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রতিক্রিয়ায় পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, যে যুক্তিতে অতিতের জোট সরকার আদমজী পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল এখন আওয়ামী লীগ সরকারও একই যুক্তিতে বাকি পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়ে প্রমান করেছে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় শাসকগোষ্টির প্রচন্ড মিল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা মুদ্রার এ পিঠ-ওপিঠ। নিজেদের মধ্যে বিরোধ যতই থাকুক সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ রক্ষায় তাদের চরিত্র একই।

মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান হতে পারে না বলে মন্তব্য করে নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অব্যবস্থাপনা, চুরি, দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য পুরো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পই উঠে যেতে পারে না। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে প্রশ্রয় দিয়ে এবং পাটকলের আধুনিকায়ন না করে আজ যেভাবে লোকসান দেখানো হচ্ছে তার দায়দায়িত্ব সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে। শ্রমিকরা কেন এর দায় বহন করবে ?

ন্যাপ নেতৃদ্বয় আরো বলেন, অবশেষে পাটকল রক্ষার সব যুক্তিতর্ক, প্রস্তাবনা ও শ্রমিকদের দাবিকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রায়ত্ত সকল পাটকল বন্ধ করে সরকার জনগনের স্বার্থেরই বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহন করলো। যা জাতীয় জীবনে দুঃখ, হতাশা ও মর্মবেদনার কারণ হয়ে থাকবে। করোনার ভয়াবহ দুর্যোগকালে পাটকলগুলোর বন্ধের মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যত অনিশ্চতার মধ্যে ঠেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঘোষণার কফিনে আরেকটি পেরেক মারলো।

তারা বলেন, পাটকল পরিচালনার জন্য বিজেএমসি গঠিত হয়েছিল; লক্ষ্য ছিল পাট ও পাটশিল্পের বিকাশ। কিন্তু, দু:খজনক হলেও সত্য শাসগোষ্টির সীমাহীন অবহেলা আর ঔদাসিন্যে পাট খাত পিছিয়ে পড়ে। ১০০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা ছিল পাট খাতে, যা কাজে লাগানো যায়নি। পুরো পাটের অর্থনীতিকে সাম্রাজ্যবাদী দাতা গোষ্ঠী, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কুপরামর্শে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তাঁবেদার আমলাদের কুপরামর্শে ও লুটেরা পুজিঁপতিদের স্বার্থের কাছে পরাস্ত হয়ে সরকার পাটকল বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিলো তা আত্মঘাতী।

নেতৃদ্বয় বলেন, সকল রাষ্ট্রয়াত্ত পাটকল বন্ধ করে দিয়ে এর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিকে সরকার মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হাতে তুলে দেয়ার আয়োজন করছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে পরোক্ষভাবে লাভবান হবে লুটেরাগোষ্টি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের যখন চাহিদা বেড়েছে তখন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন