সিলেটে ২০ শুল্ক কর্মকর্তা প্রত্যাহার

242
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে সিলেটের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনের ২০ শুল্ক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকিসহ নানা অনিয়ম তদন্ত প্রমাণিত হওয়ায় রাজস্ব বিভাগের এক আদেশে একযোগে তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় বলে জানায় কাস্টমস সূত্র।

এর মধ্যে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নকুল চন্দ্র, করুনাময় চাকমা, নারায়ণ সুর, ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশন থেকে শফিকুল আলম, চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের সুপার এবং শেওলা, এয়ারফ্রেইড’র আরও কয়েকজন।

সিলেটের কাস্টমস কমিশনার শফিকুল ইসলাম এটাকে স্বাভাবিক বদলি বললেও কয়েকজনকে শাস্তিমূলক বদলির কথা স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি সিলেটের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে ফল আমদানি চলমান রয়েছে। শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিরা আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন।

এমন অভিযোগে রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনসহ কয়েকটি শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করে ভারত ও বাংলাদেশের আমদানি রফতানি রেজিস্টার পরীক্ষা করে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের কমিশনার সফিকুল ইসলাম চার রাজস্ব কর্মকর্তাসহ ২০ জনের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন কারণে বুধবার (২২ নভেম্বর) তাদের বদলি করা হয়েছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো। বদলিকৃতদের সকলেই কর্মকর্তা পর্যায়ের বলেন কাস্টমস কমিশনার।

সিলেট কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট সূত্র জানায়- কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট তৎকালীন চট্টগ্রাম কালেক্টরেট হতে পৃথক হয়ে কার্যক্রম শুরু হয় ২০০০ সালের নভেম্বরে।

সিলেট প্রশাসনিক বিভাগের পুরো ভৌগলিক এলাকা নিয়ে এই কমিশনারেটের অধিক্ষেত্র। কমিশনারেটের আওতাধীন আমদানি পর্যায়ে শুল্ক করাদি ও স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর আদায়ের জন্য সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে ছয়টি ইউনিট রয়েছে। এগুলো হলো- কাস্টমস বিভাগ, বিমানবন্দর ও এয়ারফ্রেইট, শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট।

এগুলোর মধ্যে কাস্টমস বিভাগের অধীনে দপ্তরগুলো হচ্ছে- বরছড়া, জকিগঞ্জ, তামাবিল, শেওলা, ছাতক, ভোলাগঞ্জ, চারগাঁও, বাগলী, বাল্লা, চাতলাপুর, ইছামতি, জুরি, শাহবাজপুর, শায়েস্তাগঞ্জ এলসি স্টেশন এবং বিভাগীয় শুল্ক গুদাম ও শরিফপুর শুল্ক করিডোর।
বিমানবন্দর ও এয়ারফ্রেইট বিভাগের অধীনের দপ্তরগুলো হলো- বিমানবন্দর এবং এয়ারফ্রেইট, শুল্ক আবগারী ও মূসক বিভাগ, সিলেটের আওতাধীন ৪টি আবগারী ও মূসক সার্কেল, হবিগঞ্জে ২ টি, মৌলভীবাজারে ৩টি ও সুনামগঞ্জে ৩টি শুল্ক আবগারী এবং মূসক বিভাগ।

সিলেট কমিশনারেটের আওতাধীন শুল্ক স্টেশনগুলো দিয়ে চুনাপাথর, কয়লা, বিভিন্ন ধরনের ফলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে। শেওলা শুল্ক স্টেশন দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর ফের চলতি বছরে চাল আমদানি শুরু হয়।