পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :
খুব কাছ থেকে নিবিড়ভাবে দেখা—জ্ঞানে, বুদ্ধিতে ও বিচক্ষণতায় সমৃদ্ধ, বহুগুণে গুণান্বিত একজন আপসহীন সাংবাদিক ও সংগঠক সিরাজুল ইসলাম রতন। যিনি দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে। সাংবাদিক সমাজে তিনি একজন পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় মুখ।
সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রতন পলাশবাড়ী প্রেসক্লাব-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি দৈনিক মানবজমিন-এর পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি এবং এসএ টেলিভিশন-এর সঙ্গেও যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে মূলধারার সাংবাদিকতায় সক্রিয় থেকে তিনি অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন নির্ভীকভাবে। সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে বারবার অপশক্তির রোষানলে পড়েছেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেছেন; তবু কখনো থামেনি তার কলম।
পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে থাকাকালীন তিনি ক্লাবে গণতন্ত্র ও শুদ্ধ সাংবাদিকতা ফিরিয়ে আনতে সাহসী ভূমিকা রাখেন। নামমাত্র ও অপসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্লাবকে একটি পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর সংগঠনে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সাংবাদিকতা পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি নিজের স্থায়ী কর্মজীবন ছেড়ে এই পেশায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন।
গুরুতর অসুস্থতায় মানবেতর জীবন
বর্তমানে সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রতন গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত। বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে প্রতিদিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার হার্টে গুরুতর ব্লক ধরা পড়েছে এবং দ্রুত রিং পরানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ওষুধের ওপর নির্ভরশীল।
এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন এবং সর্বশেষ ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।
পরিবার ও অর্থনৈতিক সংকট
নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সিরাজুল ইসলাম রতনের সংসারে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানসহ মোট নয়জন সদস্য। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের ব্যয় এবং নিজের চিকিৎসা—সব মিলিয়ে ব্যয়ভার বহন করা তার একার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্ত্রীর সেলাই কাজ ও সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে দিন পার হচ্ছে পরিবারটির।
নিপীড়নের ইতিহাস
সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় আটটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চারটি মামলাও রয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে রংপুর ও গাইবান্ধা কারাগারে হাজতবাস করেন। এমনকি করোনাকালীন সময়ে কনডেম সেলে রাখার মতো অমানবিক পরিস্থিতিরও শিকার হন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে তাকে গাইবান্ধা জেলার অন্যতম নির্যাতিত সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবিক সহায়তার আবেদন
একজন সাংবাদিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সেই সাংবাদিক যদি চিকিৎসার অভাবে অসহায় জীবনযাপন করেন—তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। তাই এটি কোনো দয়া বা করুণা নয়; বরং একজন সৎ, সাহসী ও আদর্শবান সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ইতোমধ্যে তিনি পলাশবাড়ী পৌরসভা ও সমাজসেবা কার্যালয়ে সহায়তার আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টেও আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে। তবে তার জীবন রক্ষায় এখনই সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
আহ্বান
সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রতনের সুস্থতার জন্য এবং তার পরিবারকে এই কঠিন সময় থেকে রক্ষা করতে সকল সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী, মানবিক সংগঠন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তার ও তার পরিবারের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।
ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়।
তার অনুমতি ব্যতীতই ভালোবাসার অধিকার ও একজন নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অনুগত্যবোধ থেকেই এই লেখা উপস্থাপন করা হলো। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মার্জনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। সকল সাংবাদিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের নিকট দোয়া ও ভালোবাসা প্রার্থনা কামনা করছি।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন