চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ স্থলবন্দর পথে বন্ধ হয়ে গেছে ভারতীয় পাথর আমদানী

149
gb

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

বন্দর শুল্ক বা পোর্ট ট্যারিফ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দেশে ভারতীয় পাথর আমাদানীর প্রধান রুট চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পথে বন্ধ হয়ে গেছে পাথর আমদানী।
গত রোববার(১৭’নভেম্বর) থেকে বাংলাদেশী আমাদানীকারকরা অলিখিত সিদ্ধান্তে এই আমদানী বন্ধ রেখেছে। এতে সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে দেশের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পসহ সরাকারী-বেসরকারী ভৌত নির্মান খাত। প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সমাপ্ত হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শংকা।
সোমবার(১৮’নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের কোন উদ্যেগের কথা জানা যায়নি। কাজেই কবে এই অচলাবস্থার নিরসন হবে তা বোঝা যাচ্ছে না।
হটাৎ করে এমন অচলাবস্থার জন্য সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানী-রপ্তানীকারক গ্রæপ ও ‘বিওটি’ ভিত্তিতে বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারী অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড’ কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করেছে।
আমদানী গ্রæপ সেক্রেটারী তৌফিকুর রহমান বাবু জানান, গত কয়েক দিন থেকে থেকে শোনা গেলেও গত রোববার থেকে হটাৎ করে আমদানী পাথরের ট্রাক প্রতি বন্দর মাশুল টন প্রতি প্রায় ১৪০ টাকা আদায়ের ঘোষণা দেয় পানামা কর্তৃপক্ষ। যেখানে এতদিন প্রতি ট্রাকে মাশুল দিতে হত মোট ৭৮৩ টাকা। গড়ে পাথরের একটি ট্রাকের ওজন হয় ৪০ টন। সে ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি নতুন মাশুল দাড়ায় সাড়ে ৫ হাজার টাকারও বেশী।
বন্দর কর্র্তৃপক্ষের হটাৎ এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন আমাদানীকারকেরা। ভারতে অব্যহত পাথরের মূল্যবৃদ্ধি সহ বর্তমান মন্দা ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে এত মাশুল দিয়ে পাথর আমাদানী অলাভজনক হওয়ায় আমদানীকারকেরা তাই স্বেচ্ছায় বন্ধ করে দেন পাথর আমদানী।
তবে এ ব্যাপ্যারে সবদিক বিবেচনা করে আলোচনা করে সময় দিলে আমাদানীকারকেরা ওই ট্যারিফ দিতে প্রস্তুত বলেও জানান আমদানীকারক গ্রæপ সেক্রেটারী তৌফিকুর রহমান।
পোর্ট বেসরকারী অপারেটিং এ যাওয়ার ১৩ বছর পর হটাৎ এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার জন্য আমাদানীকারকেরা পানামা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।
এ ব্যাপারে পানামা’র ডেপুটি পোর্ট ম্যানেজার মাইনুল হোসেন জানান, দেশের সকল বন্দরে এই ট্যারিফ চালু রয়েছে। এতদিন শুধু সোনামসজিদ ছিল এর ব্যতিক্রম। ১৩ বছর পূর্বে পোর্ট বিওটি ব্যবস্থাপনায় যাবার সময় পাথর আমাদনীকাকদের স্বার্থ, বেসরকারী ব্যবস্থাপনা চালুর স্বার্থ ও ভুল সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর অলিখিত সিদ্ধান্তে টন প্রতি নির্ধারিত মাশুল না নিয়ে ট্রাক প্রতি মাশুল আদায় শুরু হয়।
কিন্তু এতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের অব্যহত ক্ষতি হওয়ায় ওভাবে আর মাশুল নেয়া সম্ভব নয়। এখন থেকে মাশুল নির্ধারিত হারে টন প্রতি আদায় করা হবে বলেও জানান মাইনুল হোসেন।
এদিকে উভয় পক্ষ্ই জানায়,গত ৯ ও ১৪’নভেম্বর স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য শেখ আলমগীর হোসেন বন্দরে এসে বৈঠক করে নতুন হারে মাশুল দেবার জন্য বলেন।
আমাদানীকারকেরা স্বীকার করেছেন,নতুন বন্দর ট্যারিফ দেবার ব্যাপারে পোর্ট অথরিটি সদস্যের একটি ‘সুপারিশ’ তারা পেয়েছেন। অপরদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবী ‘টন প্রতি বন্দর ট্যারিফ’ আদায় নতুন কোন ব্যাপার নয়। শুধ দেশের সোনামসজিদ বন্দরে এতদিন এটি চালু ছিল না। এখন থেকে এটি চালু করা হল।
বন্দর মাশুল নিয়ে সৃষ্ট এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে পাথর আমদানী। বেকার হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। মুলত: পাথর ও পিঁয়াজ আমদানীর জন্য ব্যস্ত এই বন্দরে এখন ওই দুই পণ্য আমদানী বন্ধ থাকায় মৃত:প্রায়।