রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
অপ্রত্যাশিত উৎস থেকেও কষ্ট পাই— পাই না? সব ব্যথার প্রতিশোধ নিতে চাওয়া ঠিক নয়। যে ব্যাখ্যাতীত ব্যথা দিয়েছে, সে যদি মনে করে তার কিছুই হবে না— তবে সেও ভুল ভাবছে। যে অনর্থক আঘাত পেয়েছে, সে প্রতিদান পাবে। যে ইচ্ছা করে কষ্ট দিয়েছে, সেও বিনিময় পাবে। পুরস্কার কিংবা শাস্তি কোন পথে, কখন আছড়ে পড়বে— তা আসলে আমরা জানি না। যারা অহংকার করছে, তাদের অহংকার করার আরও সুযোগ দেওয়া হয়। যে আঘাত পাচ্ছে, তাকেও ধৈর্যের শক্তি দেওয়া হয়। কর্মফল নীরব বা নিষ্ক্রিয় থাকে না— সে আসে। অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে এসে তছনছ করে দেয় সাজানো স্বপ্ন, কিংবা এলোমেলো জীবনকে গড়ে দেয় শান্তির বাগানে।
ভেঙে পড়লেই হেরে যাওয়া ঠিক নয়। আঘাত পাওয়ার পর ফিরে আসার যে সংগ্রাম— সেটাই মানুষকে দাঁড় করিয়ে দেয়। ঝড়ে বিধ্বস্ত বৃক্ষটিও একদিন পুষ্পকরথে ভরে ওঠে, ছায়া ও ফল দেয়। কেউ অহেতুক আঘাত করে যাচ্ছে, ঠকাচ্ছে কিংবা চোখের পানি ঝরাচ্ছে— সবর করুন। ধৈর্যের ফল একদিন মিষ্টি হয়েই ফিরবে। অন্তরাত্মা এমনভাবে সন্তুষ্ট হবে যে নিজেকে সুখের আঙিনায় আবিষ্কার করবেন। পদ কিংবা খ্যাতি, সম্পদ কিংবা শক্তি— শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। আপনি অন্যায়ভাবে যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ন্যূনতম ততটুকু লাভবান হবেনই। তবে লাভের অঙ্ক ক্ষতির সমান থাকে না—বহুগুণ বেড়ে যায়।
যারা জুলুম করে, তাদের মোকাবিলা করতে না পারলে চুপ হয়ে যান। অন্তর থেকে উৎসারিত দীর্ঘশ্বাস কোনোভাবেই বিফলে যাবে না। যে আপনার মন খারাপ করে দিয়েছে, রাতে ঘুম কেড়ে নিয়েছে কিংবা অন্যায্য ক্ষতি করেছে— সে আসলে নিজেকেই ঠকিয়েছে। ঠক সবচেয়ে বেশি ঠকে। কথায় জব্দ করা, শক্তিতে অবনত করা কিংবা দায় চাপিয়ে দেওয়া— এসবে আপনার প্রতি অন্যের ঋণ সৃষ্টি হয়। কেউ অসম্মান বা অবমাননা করলে, মিথ্যা কিংবা দুর্নাম ছড়ালে আপনি হেরে যান না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদের মনে হতে পারে তারা আপনাকে কাবু করতে পেরেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনি এমন সততা ও শক্তি নিয়ে পুনরাগমন করবেন— যা দেখে অন্যায়ের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাবে। সত্য থমকে যায়, কিন্তু থেমে যায় না।
কেউ বাজে কথা বলছে, কুৎসা বা দুর্নাম রটাচ্ছে, অধিকার কেড়ে নিয়েছে কিংবা হাসতে হাসতে ঠকাচ্ছে— এসব দেখে মনে মনে হাসুন। এর পরিণামে আপনারই মঙ্গল। সাধনা করেও যা অর্জন করতে পারতেন না, তা আপনার শত্রুরাই পরিশ্রম করে আপনার ভাগ্যে জুটিয়ে দিচ্ছে। যারা রোজ আপনাকে খুঁটিয়ে যায়, তারা আসলে আপনাকেই পরিশুদ্ধ করে। অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ হজম করতে শেখা, বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও নিজেকে সামলে রাখা কিংবা শত্রুর দিকে তাকিয়ে হাসিমুখ রাখা— এগুলোই আপনার বিজয়ের চিহ্ন। যারা আপনাকে কাবু করতে এসেছিল, তারা আসলে হেরেই গেছে।
ব্যক্তিত্ব ধরে রাখুন। ইগো নয়, আত্মসম্মানে বলীয়ান থাকুন। অবৈধ পথে অর্জিত হয়— এমন কোনো কিছুর দিকেই হাত বাড়াবেন না। অল্পে তুষ্ট থাকার রুচি গড়ে তুলুন। একদিন অহংকারীরা, উদ্যতরা এবং অনৈতিক শক্তির উৎসগুলো আপনার সামনে পদানত হবে। এক্ষেত্রে ধৈর্যই হতে পারে আপনার চিকিৎসা। কেউ আঘাত করে গেলে তাকেও হাসিমুখে প্রশংসা করুন— তাতে আত্মঅনুশোচনায় তারা কেঁদে কূল পাবে না। যত দুর্বলতা দেখাবেন, ততই তারা তোয়াজ নেওয়াজ করে আপনাকে ঝেঁকে ধরবে। এমনভাবে চলুন, যাতে তারা ভীত থাকে। আপনার সততাই আপনার উজ্জ্বলতার জানান দেবে। দু’পয়সায় বিক্রি হলে চিরতরে আপনি হেরে যাবেন। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরাজয়ের প্রস্তুতিই জয়ী হওয়ার খুঁটি। সবাই ঠকিয়ে যাক— আপনি যেন কারও ঠকার কারণ না হন। বারণ করছি।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন