মৌলভীবাজারে রোপা আমন ব্রি-৭৫ জাত ধানের আনুষ্ঠানিক নমুনা শস্য কর্তন

206
gb

নজরুল ইসলাম মুহিব মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ॥

মৌলভীবাজারে রোপা আমন (ব্রি ধান-৭৫) ধানের নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠান সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকায় কৃষক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন এর ফসলের মাঠে এ নমুনা শস্য কর্তন করা হয়।
নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ খামারবাড়ি ক্রপসিং উইং পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন খামারবাড়ি ক্রপসিং উইং এর অতিরিক্ত পরিচালক আলিমুজ্জামান মিয়া, সিলেট অ লের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ শাহজাহান, মৌলভীবাজার কৃসি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, জেলা পরিসংখ্যান অফিসার নন্দিতা দেব, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কান্তি দত্ত, শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার মোনালিসা সুইটি, নিরাপদ পান উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মসূচী প্রকল্প পরিচালক তরিকুল ইসলাম টুটুল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সময় টিভির শাহ অলিদুর রহমান,এনটিভির স্টাফ করসপেন্ডেন্ট এস এম উমেদ আলী, প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিনিধি আকমল হোসেন নিপু, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন প্রতিনিধি তমাল ফেরদৌস দুলাল, ইটিভির জেলা প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী, বিটিভি জেলা প্রতিনিধি হাসনাত কামাল, মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মু. ইমাদ উদ-দীন, দৈনিক আমার সংবাদের মাহবুবুর রহমান রাহেল, বাংলা ট্রিভিউনের সাইফুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তরের হোসাইন আহমদ। ঢাকাস্থ খামারবাড়ি ক্রপসিং উইং পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, কম সময়ে অধিক ফলন হয় এমন জাতের ধান জমিতে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৭৫ জাতের ধান। এ ধান ১১৫ দিনে ফসল কাটার জন্য উপযোগী হয়ে যায়। ব্রি-৭৫ জাতের চাল সরু থাকায় খেতে অধিকাংশ মানুষ পছন্দ করেন। এর চাল মানসম্পন্ন হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। হেক্টর প্রতি এ ধানের উৎপাদন সাড়ে ৫ মেট্রিক টন পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও জমি থেকে ধান কাটার পর একই জমিতে সময়মতো রবিশষ্য যেমন সরিষা, সুর্যমূখি, ভুট্রা, ডাল চাষ করা যায়। রবিশষ্য চাষাবাদ বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে তৈল ও ডাল আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এ বছর রোপা আমনের আবাদ হয়েছে ১লক্ষ ১শত ৫০ হেক্টর জমিতে। রোপা আমন উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ২লক্ষ ৭০হাজার ৪শত ৫ মেট্টিক টন চাল।
তিনি বলেন, এ মৌসুমে ব্রি ধান-৪৯ সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও চাষ হয়েছে হাইব্রিড, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫২ ধান। নতুন ধান ব্রি-৭৫ ভালো হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-১৪ ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন জানান, এ বছর তারা ১৩০ কেয়ার জমিতে রোপা আমন ব্রি ধান-৪৯, বিআর ১১ ও পরিক্ষামূলক ২ কেয়ার জমিতে ব্রি ধান-৭৫ চাষ করেছেন। প্রত্যেকটি জাতের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পকালিন ব্রি ধান-৭৫ আশাতিত ফলন হয়েছে। গতবছর আমন মৌসুমে ১৩০ কেয়ার জমিতে ১ হাজার ৯শত ৭০ মন ধান পেয়েছেন। এ বছরও ২ হাজার মনের বেশী ধান পাবেন বলে আশাবাদি। তবে তিনি ধানের ন্যয্যমূল্য পাবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন। ছবি সংযুক্ত ৩টি।