সন্তানের ওপর ভরসা রাখুন

348
gb

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান | উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  ||

এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে কয়েকটি দিন বাকি। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি প্রায় শেষপর্যায়ে। এখন চলছে রিভিশন পর্ব। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বেশকিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। খুঁটিনাটি সেসব বিষয়ে গাইডলাইন দিয়েছেন

পরীক্ষা হচ্ছে মূল্যায়নের একটি অন্যতম পন্থা। আমাদের দেশে মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এখন তাদের শিক্ষাজীবনের এই দীর্ঘ দশ বছরের মধ্যে আরো দুটি বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, তবুও মাধ্যমিক পরীক্ষার গুরুত্ব সবসময় বেশি। বলা যায়, এর মাধ্যমেই মূলত তাদের জীবনে চলার পথ ঠিক হয়। পরীক্ষার সময়টায় শিক্ষার্থীদের যেমন নিজের জন্য সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি অভিভাবকদেরও বিশেষ নজর দিতে হয় সন্তানের প্রতি। অবশ্য পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের ‘সিরিয়াসনেস’ আগের চেয়ে এখন ঢের বেড়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতাও বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষা পদ্ধতি বেশ আধুনিক। আগের সনাতন পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে এখনকার সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যেও রয়েছে অনেক পার্থক্য। শিক্ষার্থীরা এখন তাদের সৃজনশীলতার পরিচয় দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের নিজের চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটিয়ে মেধা ও প্রতিভা প্রকাশ করছে।                                                        আশার কথা, আমাদের সন্তানরা নিজেরা অত্যন্ত সৃজনশীল। আগের যে কোনো সময়ের থেকে তাদের মেধা-মনন অনেক বেশি গতিশীল। তারা প্রযুক্তির অনেক সুবিধা পাচ্ছে। কাজেই তাদের ওপর ভরসা রাখা উচিত। তাদের প্রতি অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণটা কমিয়ে দিতে হবে। নিজের মতো করে পড়াশোনাটা করতে দিতে হবে। যে কোনোভাবেই সন্তানদের মানসিক চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এটিই অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ।

এ সময় পড়াশোনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত থাকে পরীক্ষার্থীরা। তারা অত্যন্ত সেনসেটিভ। কাজেই তারা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভোগে, যা খারাপ ফলাফলের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নিম্নমাধ্যমিক পরীক্ষায় শুধু ভালো ফলাফলের জন্য সন্তানদের চাপ দেওয়ার কিছু নেই। তাদের পুরোপুরি স্বাধীনতা দিন। তার মতো করে চলতে দিন। শিক্ষার্থীদের নিজের দায়িত্ব নিতে সহযোগিতা করুন। তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে রয়েছে। সন্তানের পাশে থাকুন। তার প্রস্তুতির খোঁজ রাখুন।

পরীক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, এখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো শিক্ষার্থীদের বাছাই করে নেওয়া হয়। যারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে, তারাই পরীক্ষায় ভালো করবে। এ জন্য নিজের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে।                              আসলে এখনো আমাদের সব শিক্ষকের সৃজনশীল বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সৃজনশীলতা নিয়ে তাদের মধ্যে চর্চারও অভাব রয়েছে। এদিকে অভিভাবকরাও সৃজনশীল বিষয়ে পড়াশোনা করেননি। তাই তাদেরও এ সম্পর্কে ধারণা কম। কোনো ক্ষেত্র নেই বললেই চলে। ফলে দেখা যায়, সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকরা বিভিন্ন প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারগুলোয় দৌড়াদৌড়ি করছেন। এ সমস্যা সীমিত সময়ের জন্য। সৃজনশীল মাধ্যমে পড়াশোনা করা এই শিক্ষার্থীরা নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পড়াশোনার মান গড়তে হবে। পৃথিবী যেদিকে যাচ্ছে, আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। এর জন্য যত কষ্টই হোক, তা আমাদের করতে হবে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More