যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসিদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ থমকে গেছে ; ব্রেক্সিট অস্থিরতাই মূল কারণ:

29
gb

 

আব্দুর রশিদ, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি:

ব্রিটেনে বসবাসকারী প্রবাসি বাংলাদেশীরা তাদের পরিবার পরিজনদের জন্যে বাংলাদেশে নিয়মিতই টাকা-পয়সা পাঠিয়ে থাকেন। আর ইদের সময় এর পরিমানটা স্বাভাবিক ভাবেই অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের ইদুল আজহাতে ব্রিটেন থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পরিমান অনেক কম। হঠাৎ করে পাউন্ডের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাওয়াতে বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রবাহ থমকে গেছে। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ক্ষমতা গ্রহণের পরদিন থেকেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে পাউন্ডের দরপতন শুরু হয়। ব্রিটেনের ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া ব্রেক্সিট কিভাবে সম্পন্ন হবে তা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাই পাউন্ডের দরপতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউকের নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট সম্পাদন করতে পারেন বলে যে একটা ধারণা করা হচ্ছে, এই ধারণাই ব্রিটেনের মুদ্রাকে ডলার এবং ইউরোর বিপরীতে দূর্বল করে দিচ্ছে। লন্ডনে অবস্থিত মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ হাউজ (ইউকে) লিমিটেড এর সিইও খায়রুজ্জামান দৈনিক জাগরণের সাথে আলাপকালে জানান, রমদানের ইদের তোলায় এবারে বাংলাদেশে অনেক কম টাকা পাঠানো হয়েছে। অনেকে মনে করেছিলেন পাউন্ডের বিপরীতে টাকা বেড়ে যাবে কিন্তু উল্টো ব্রেক্সিটের কারণে পাউন্ডের মান কমে গেছে। তাই অনেকেই টাকা পাঠান নাই। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের তোলনায় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে রেমিটেন্সের প্রবাহ অনেক ভালো ছিল, তখন টাকার রেইটও ছিল আশানুরূপ। কিন্তু হঠাৎ করে ব্রেক্সিট অস্থিরতার কারণে ব্রিটেনের মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়াতে তাদের ব্যবসা অনেক কমে গেছে। জনাব খায়রুজ্জামান মনে করেন, একটা ভালো ব্রেক্সিট হলেই পাউন্ডের অবস্থান শক্তিশালী হয়ে যাবে, কিন্তু প্রশ্ন হলো ব্রেক্সিট নিয়ে পরিস্কার কোন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী অক্টোবর মাসে ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা কেমন হবে তা পরিস্কার নয়। আর ব্রেক্সিট হলেও বাজারটা স্থিতিশীল হতে ১ থেকে ২ বছর লাগতে পারে বলে মনে করছেন এ ব্যাংকার।
ইউকে থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর ব্যবসায় জড়িত পূবালী ব্যাংক এক্সচেঞ্জ (ইউকে) লিমিটেডও এবারের কোরবানীর ইদে অনেক কম ব্যবসা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব অপারেশন জনাব শের মাহমুদ দৈনিক জাগরণকে জানান, গত জুন মাসের তোলনায় তারা অনেক কম ব্যবসা করেছেন। তিনি বলেন, তারা গত জুন মাসে তিন মিলিয়নের উপর টাকা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। অথচ কোরবানীর মত একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা মাত্র ২ মিলিয়ন টাকা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। একমাত্র ব্রেক্সিট নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণেই পাউন্ডের দাম কমাতে এমন বাজে ব্যবসা হচ্ছে। জনাব শের মাহমুদও মনে করেন, ব্রেক্সিট সম্পন্ন না হওয়ার আগ পর্যন্ত অবস্থা এমনই থাকবে। টাকার রেইট কমে যাওয়াতে আবার অনেকে ভিন্ন উপায়ে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন শের মাহমুদ। মানে প্রবাসিরা বৈধ পথে দেশে টাকা না পাঠিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন। যার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন আর বাংলাদেশ হারাচ্ছে রেমিটেন্স।
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নো ডিল ব্রেক্সিট করার সম্ভাবনার জন্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাউন্ডের বড় রকমের পতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। যার প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনে বসবাসকারী সকল দেশের অভিবাসিদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর। পাউন্ডের মান আবার আগের মত শক্তিশালী হয়ে উঠা একটি কার্যকরী ব্রেক্সিটের উপরই নির্ভর করছে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More