মৌলভীবাজার রাজনগরের উত্তরভাগ চা-বাগানে শ্রমিকদের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

222

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ চা-বাগানে ধর্মঘট করেছে চা শ্রমিকরা। ধর্মঘট তুলে কাজে যাওয়ার ঘোষণার পর শ্রমিকদের দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার এঘটনায় উভয়পক্ষে ৭জন শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ চা-বাগানের চৌকিদার অমৃতলাল পাশীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাগান কর্তৃপক্ষ অপসারণ করে ও বাগান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে নোটিশ দেয়। পরে বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা মামলা না করতে অনুরোধ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। কিন্তু ফ্যাক্টরী ম্যানেজার সাইদুর রহমান গত ১৩ মে তার বিরোদ্ধে রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে অপরপক্ষের রশিদ মিয়া, মনির মিয়া, আমজদ আলী নামে তিন শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে না দিয়ে অফিসে রাখা হয়েছে। তাদেরকে ওভারটাইমের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় স্বাক্ষী করে শ্রমিকদের বিরোদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। পঞ্চায়েত কমিটি ও শ্রমিকরা যেকোনো দাবি তুললেই কর্তৃপক্ষ তাদেরকে (অপর পক্ষের শ্রমিকদের) দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ শ্রমিকদের একাংশের। এসব ঘটনায় ক্ষ্রিপ্ত ছিল পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা। তারা মানবিক বিবেচনায় বাগানের অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিক অমৃতলাল পাশীর পরিবারের কোনো সদস্যকে কাজ দেওয়া, মন্দিরের কাজ দ্রুত শেষ করা, বাগান শ্রমিকদের লেখাপড়া জানা সন্তানদের চাকুরীসহ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া, অমৃতলাল পাশীর বিরোদ্ধে করা মামলা আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি ও অফিসে কাজ করা অপরপক্ষের শ্রমিকদের মাঠের কাজে নিযুক্ত করার দাবি জানিয়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শ্রমিক ধর্মঘট করে।

বেলা ১১টার দিকে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন ক্ষুব্দ শ্রমিকদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগদিতে বলেন। পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা ধর্মঘট শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলে অপরপক্ষের শ্রমিকরা অফিসের দিকে যায়। এসময় উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় পক্ষের লোকজন বল্লম, রামদা, তীরধনুক ও লাঠিসোটা হাতে মুখোমুখি হয়।

একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে দুপক্ষের ৭ জন শ্রমিক আহত হয়। তারা হলেন রিতা কর্মকার (৪৫), সুনীল কর্মকার (৪০), রুনা নাইডু (৩৫), লক্ষীলাল পাশী (৩৫), রুসনা বেগম (৪০), হেমন্তী দাস (৪০), কুসুম বাগতি (৪০) শ্রীমতি বাগতি (৪০)। তাদেরকে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকরা এঘটনার ছবি তুলতে গেলে কামাল হোসেন নামের ফ্যাক্টরীতে কর্মরত একজন বাঁধা দেয়।

বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি দুলাল বাগতি বলেন, বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা কোনো ন্যায্য দাবি তুললেই কর্তৃপক্ষের সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী একটি পক্ষ শ্রমিকদের বিরোদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। শ্রমিকদের কথা না ভেবে তারা মালিকদের পক্ষ নেয়। এতে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের উপর ক্ষুব্দ রয়েছে। এছাড়া আমিসহ বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতা ও শ্রমিকদের বিরোদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মামলায় ওই সুবিধাভোগী শ্রমিকদেরকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। ম্যানেজার সাহেব দাবি মেনে নিলে আমরা বেরিয়ে আসার সময় তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।

শ্রমিকদের অপরপক্ষের বিমল গড়াইত বলেন, আমরাও চাই অমৃতলাল পাশীর বিষয়টির সুন্দর সমাধান হোক। কিন্তু আমাদের বিরোদ্ধে ম্যানেজারের কাছে তারা মিথ্যা নালিশ করেছে। আমারা ম্যানেজার সাহেবের কাছে বিষয়টি জানতে যাওয়ার সময় তারা আমাদের উপর হামলা করে।

এব্যাপারে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, উত্তরভাগ চা-বাগানে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের দু’পক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছে। মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।