উত্তর কোরিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

160

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

উত্তর কোরিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রবিবার দুই কোরিয়ার বেসামরিকীকরণ অঞ্চলে (ডিএমজেড) উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে তিনি এ ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি উত্তর কোরিয়ার ভেতরে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করেন।

এর আগে দুই কোরিয়ার সুরক্ষিত বেসামরিকীকরণ অঞ্চলে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন। এ নিয়ে এক বছরের মধ্যে ট্রাম্প-উনের তৃতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকের আগে দুই নেতা উষ্ণ করমর্দন করেন। দুজনকেই হাসিমুখে দেখা যায়। এ সময় দুই দেশই স্থগিত হয়ে পড়া পরমাণু আলোচনা শুরু করতে দল গঠনে একমত হয়। এর আগে দুই নেতার সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ভেস্তে গিয়েছিল।

পশ্চিমা সমালোচকরা অবশ্য এক বছরের মধ্যে দুই নেতার তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি এ বৈঠককে রাজনৈতিক নাটক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁদের মতে, পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে নিজেদের আন্তরিকতা তুলে ধরার প্রয়োজন উত্তর কোরিয়ার রয়েছে।

গত শনিবার জাপানে জি-২০ সম্মেলন শেষে হঠাৎ করেই শনিবার এক টুইটার পোস্টে ট্রাম্প সবাইকে চমকে দেন। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তিনি শুধু ‘হাত মেলানোর জন্য’ ডিএমজেডে যাচ্ছেন। উত্তর কোরিয়াও ট্রাম্পের ওই টুইটে বিস্মিত হয়। পরে সম্মেলন করে গতকাল প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া এবং পরে দুই কোরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত বেসামরিকীকরণ অঞ্চলে যান ট্রাম্প। ট্রাম্পের টুইটের পর সেখানে দ্রুত আয়োজন করা হয় এই বৈঠকের।

গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উন ডিএমজেডে ৩০ মিনিট বৈঠকে মিলিত হন। তাঁরা পরমাণু আলোচনা ফের শুরু করতে টিম গঠনের ব্যাপারে একমত হন। বৈঠকে ট্রাম্প জামাতা কুশনার উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে বৈঠকে যোগ দেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।

এর আগে গত শুক্রবার জি-২০ সম্মেলনে অংশ নিতে ট্রাম্প জাপানের ওসাকায় যান। দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয় গত শনিবার।

গতকাল বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়া নেতা কিম জং উন যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আজকের দিনটি বিশ্বের জন্যই মহান দিন। অনেক অনেক বড় বিষয় আজ ঘটে গেছে।’ তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া সীমান্তে পা রাখতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন তিনি। কিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার সঙ্গের এই মুহূর্ত উপভোগ করছি আমি।’

কিম জং উন বলেন, তাঁদের এ সাক্ষাৎ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের সব আলোচনায় এই সফর ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে বিশ্বাস করি।’