পাইকগাছায় প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ট জনজীবন : বৃদ্ধি পেয়েছে গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব

165

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা (খুলনা) \

পাইকগাছায় আষাঢ়ে চৈত্রের তাপদাহে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রচন্ড গরমের কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে সব শ্রেণীর মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে সকল কার্যক্রম সহ স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। দেখা দিয়েছে, জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া, টাইফয়েড সহ বিভিন্ন ধরণের রোগ বালাই। এ ধরণের রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কোমলমতি শিশুরা। চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে ভালমানের কোম্পানীর ঔষধ। সূত্র মতে, বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রের হিসাব অনুযায়ী গত ১৫ জুন থেকে বর্ষা ঋতু শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আষাঢ় মাসের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হতে চললেও দেখা নেই বর্ষার। অনেকেই বলছেন, বাংলার আকাশ এ বছর অভিমান করেছে। এদিকে, আষাঢ়ের প্রচন্ড গরম, চৈত্রের তাপদাহ ছাড়িয়ে গেছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরমের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি। কোথাও যেন স্বস্তি নাই। অস্বস্তিতে রয়েছে সব বয়সের মানুষ। প্রচন্ড গরমের কারণে ব্যাহত হচ্ছে, দৈনন্দিন কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বান্দিকাটি গ্রামের দিনমজুর ইউনুছ আলী গোলদার জানান, দিনমজুরের কাজ করেই আমার সংসার চলে। এ বছর গরমের কারণে দিনমজুরের কাজ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে, প্রচন্ড তাপমাত্রার কারণে দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া, চর্মরোগ ও টাইফয়েড সহ গরমজনিত নানা ধরণের রোগ। এ ধরণের রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়ঃবৃদ্ধরা। ল²ীখোলা গ্রামের লাবনী বেগম জানান, আমার দেড় বছরের শিশু গত ২ সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়াজনিত সমস্যায় ভুগছে। উত্তর খড়িয়া গ্রামের বর্ণালী বৈদ্য জানান, আমার ১০ বছরের ছেলে গত এক সপ্তাহ প্রচন্ড জ্বরে ভুগছে। গত ৪ দিন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জ্বর থেকে এখন তার টাইফয়েডের ল²ণ দেখা দিয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মুহাম্মদ কওসার আলী গাজী জানান, উচ্চ মাপমাত্রার কারণে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া, চর্মরোগ ও টাইফয়েড সহ নানা ধারণের রোগ হয়ে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত তাপের কারণে শিশুরাই এধরণের রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে পরিবারের অনেকেই। অনেক সময় ঔষধও কোন কাজে আসছে না। এ সময় বিশুদ্ধ খাবার পানি, খাওয়ার স্যালাইন ও তরল জাতীয় খাবার বেশি বেশি খাওয়া দরকার। ঠান্ডা খোলামেলা বাতাসে থাকতে হবে। পরিহার করতে হবে আইসক্রিম সহ বাইরের দোকানের ভাজা পোড়া খাবার খাওয়া। বিশেষ করে গরমের ঘাম যাতে শরীরে না বসে সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। শিশুদের প্রতি আলাদা যতœ নিতে হবে। গরমজনিত রোগে প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে ভালমানের কোম্পানীর জ্বরের ঔষধ। সরবরাহ কম থাকায় এ ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে উপজেলা কেমিস্ট এÐ ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি ডাঃ আনোয়ার হোসেন জানান। তিনি বলেন, সরবরাহ খবুই কম থাকায় বাজারে স্কয়ার কোম্পানীর এইচ প্লাস সিরাপ ও ট্যাবলেট এবং বেক্সিমকো কোম্পানীর নাপা সিরাপের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম মারুফ হাসান জানান, গরমের কারণে যে ধরণের রোগ বালাই বৃদ্ধি পাওয়ার কথা সে ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। আর বাজারে যে সব ঔষধ সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এ বিষয়টি কোম্পানীর কর্মকর্তারাই ভাল বলতে পারবে।