১০ বছর পর সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত দুটি মামলার রায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ জেএমবি সদস্যের ১০ বছর করে কারাদন্ড

50
gb

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে সন্ত্রাস বিরোধি আইন ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার পৃথক রায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জামায়েতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর ৬ সদস্যকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুটি মামলাতেই একই সাজা প্রদান করা হয়। রোববার (১৬’জুন) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ শওকত আলী ৪ জন দন্ডিতের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডিতরা হলেন,জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার কলাইদিয়াড় গ্রামের মৃত.তৈয়ব আলীর ছেলে আবদুল মুমিন ওরফে আবদুল্লাহ(৩৮),সদর উপজেলার চরমোহনপুর গ্রামের দুরুল হুদার ছেলে সেলিম ওরফে হারুন মিস্ত্রী(৩৬),গোমস্তাপুরের নিমতলাকাঠাল গ্রামের আব্দুল মাবুদের ছেলে শাহাদৎ ওরফে আব্দুর রহিম ওরফে নয়ন(৪২), নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার পরানপুর গ্রামের মৃত.আব্দুল আলীমের ছেলে হজরত ওরফে আলী ওরফে ফিরোজ কবির(৩৩), জেলার ভোলাহাট উপজেলার দক্ষিন মুশরীভুজা গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম(৩৫) ও ভোলাহাটের খড়কপুর গ্রামের তোবজুল হকের ছেলে রমজান আলী(৩২)।
দন্ডিতদের মধ্যে তরিকুল ও রমজান পলাতক রয়েছেন। দুটি মামলাতেই উচ্চ আদালতের আদেশে (কোয়াষ্টমেন্ট) রেহাই পান ভোলাহাটের দক্ষিন মুশরীভুজা গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে রবিউল ইসলাম রবি(৩০) ও জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সামজোলা গ্রামের আকতার হোসেনের ছেলে আব্দুর রাকিব ওরফে সুমন(৩৬)। এছাড়া আদালত দুই মামলা থেকেই আসামী ভোলাহাটের দক্ষিন মুশরীভুজা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেলকে(৩২) খালাস দেন।
মামলার নথি সূত্রে ও সরকারী কৌসুলী আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, শিবগঞ্জ থানার একটি অস্ত্র মামলায গ্রেপ্তার দন্ডিত আব্দুল মুমিনকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান,সক্রিয় জেএমবি নেতা ও সদস্যরা ভোলাহাটের দক্ষিন মুশরীভূজা ও খড়কপুর গ্রামে জড়ো হয়ে সংগঠন গোছানো, অস্ত্র প্রশিক্ষণ,বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই তথ্যে পুলিশের বিশেষ দল ২০০৯ সালের ১৭ জুন সকালে রেহাইপ্রাপ্ত আসামী রবিউলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যে তৎক্ষনাৎ পলাতক আসামী রমজান আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১টি ওয়ানশুটার গান,৩টি গুলি ও জেহাদী বই উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ওই দিনই ভোলাহাট থানায় একই আসামীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ভোলাহাট থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মজিদ ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
১৪ জনের সাক্ষ্য,প্রমাণ ও শুনানী শেষে আদালত রোববার দুপুরে দুটি মামলাতেই পৃথকভাবে একই দন্ড প্রদান করেন। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আ্যাড.মাইনুল ইসলাম ও আ্যাড. শরিফুল ইসলাম। ###

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More