প্রেক্ষাপট: ড. ইউনূসকে ঘিরে বিতর্ক ও হয়রানির অভিযোগ

দেলোয়ার জাহিদ ||

অন্তর্বর্তীকালীন (বাংলাদেশের সংবিধানে অসমর্থিত) সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তা এবং অনলাইনে অপপ্রচার ও শারীরিক হুমকি প্রদানের অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টারা এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ, অপপ্রচার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশ সরকারও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, বিস্ময় ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—এটি অনেকের কাছে হয়তো অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে কোনো ব্যক্তির আন্তর্জাতিক পরিচিতি বা রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনসম্মত আচরণ পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকা নিয়ে মতপার্থ্যক্য রয়েছে । একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনসমালোচনা বা প্রতিবাদের অধিকারও গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুলাই ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ: ন্যায়বিচার, প্রতিশোধ ও মব-সংস্কৃতি

বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থান রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকারের সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি অনাস্থা এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি সরকার পরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা, প্রতিশোধমূলক সহিংসতা, গণপিটুনি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এ প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা যখন রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার বাইরে প্রতিশোধ, গণচাপ কিংবা জনতার শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তখন তা কি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে, নাকি বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও গভীর করে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে মব জাস্টিস, মব লিঞ্চিং, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা এবং জননিরাপত্তার সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। বরং রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব, আইনের শাসন ও সামাজিক নৈতিকতার পারস্পরিক সম্পর্কের আলোকে এসব ঘটনার মূল্যায়ন প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব, আইনের শাসন ও সামাজিক নৈতিকতা

রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব, আইনের শাসন ও সামাজিক নৈতিকতা একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অপরিহার্য তিনটি ভিত্তি। রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় সংবিধান, আইন, জনগণের সম্মতি এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মাধ্যমে। আইনের শাসন নিশ্চিত করে যে সরকার, রাজনৈতিক দল, ক্ষমতাবান ব্যক্তি কিংবা সাধারণ নাগরিক—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব যখন আইনসম্মত ও জনকল্যাণমুখী না হয়ে ভয়ভীতি, দমন-পীড়ন কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার বিপন্ন হয়।

সামাজিক নৈতিকতা বলতে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবিক মর্যাদা রক্ষা, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেকসম্পন্ন অবস্থান গ্রহণকে বোঝায়। কোনো অভিযোগের বিচার জনতার হাতে ছেড়ে দেওয়া, মব-সহিংসতাকে সমর্থন করা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে ন্যায়বিচার হিসেবে উপস্থাপন করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজে অপরাধের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে—উন্মত্ত জনতার চাপ বা সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছায় নয়।

অতএব, রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সামাজিক নৈতিকতার সমন্বয়ই বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিরোধ, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শর্ত।

মব-সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন

বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও সমালোচনায় মব-সন্ত্রাসে উসকানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—প্রকাশ্যে মানুষকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার আহ্বান, প্রায় ৪,৫০০ শিক্ষককে জুতার মালা পরানো, মারধর ও জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করার ঘটনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং শিল্পকারখানায় হামলার ফলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ।

এ ছাড়া হামের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ও শিশুদের মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্ক, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক লাইসেন্স গ্রহণ, মবের চাপের মুখে বিচারপতিদের পদত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের মতো বিষয়ও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের অংশ হয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও এ আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ঘটনায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো একটি কারণকে দায়ী করা উচিত নয়। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতায় উসকানি কিংবা বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠলে তা রাজনৈতিক বক্তব্যের স্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা উচিত।

মূল প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি ন্যায়বিচারের মানদণ্ডও পরিবর্তিত হবে? কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কি তাঁদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা নিষিদ্ধ হবে? আবার রাজনৈতিক বিরোধী হওয়ার কারণে কাউকে প্রমাণ ছাড়াই অপরাধী সাব্যস্ত করা কি গ্রহণযোগ্য হবে? উভয় ক্ষেত্রেই উত্তর হওয়া উচিত—না। জবাবদিহি হতে হবে সর্বজনীন, নিরপেক্ষ ও প্রমাণনির্ভর।

টেরোরিস্ট’ আখ্যা: হয়রানি, মানহানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে নিউইয়র্ক বিমানবন্দরের ঘটনার আলোচনায় কয়েকজন তাঁকে ‘টেরোরিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন উঠেছে: কাউকে প্রকাশ্যে ‘টেরোরিস্ট’ বলা কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়রানি বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ?

এর উত্তর দিতে হলে হয়রানি, হুমকি, মানহানি এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। হয়রানি বলতে প্রযোজ্য আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী এমন আচরণ বা যোগাযোগকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভয়ভীতি, নিপীড়ন বা গুরুতর মানসিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। তবে সব ধরনের কঠোর সমালোচনা, নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা অপমানজনক শব্দের ব্যবহারই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়রানি বা অপরাধ নয়।

কোনো ব্যক্তিকে ‘টেরোরিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে—শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্যদাতাকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না। বক্তব্যটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমালোচনা কিংবা কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষোভের প্রকাশ কি না, তা ও বিবেচনা করতে হবে। অন্যদিকে, কাউকে সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করা হলে মানহানির প্রশ্ন উঠতে পারে। বক্তব্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, প্রকাশের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানির সংজ্ঞা এবং ৫০০ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে; একই সঙ্গে আইনে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমও স্বীকৃত। অন্যদিকে, ৫০৩ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে হুমকি ও তার উদ্দেশ্যের মতো উপাদানের ভিত্তিতে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে সংঘটিত ঘটনার আইনগত মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ফেডারেল, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও প্রযোজ্য স্থানীয় আইন বিবেচ্য হবে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির বিধান সরাসরি ওই ঘটনার ওপর প্রয়োগ করা যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

সুতরাং, ‘টেরোরিস্ট’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়রানি বা অপরাধ বলা আইনগতভাবে যথার্থ নয়। একইভাবে, প্রতিটি পরিস্থিতিতে এমন বক্তব্যকে অপরাধমুক্ত ঘোষণা করাও সঠিক হবে না। বক্তব্যের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য হুমকি, বেআইনি ভীতি প্রদর্শন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানি কিংবা অন্য কোনো অপরাধের উপাদান যুক্ত আছে কি না, সেটিই নিরপেক্ষ মূল্যায়নের বিষয়।

রাজনৈতিক সুবিধাভোগিতা নয়, নীতির ধারাবাহিকতা

ড. ইউনূসের প্রতি সমর্থন কিংবা বিরোধিতা—কোনোটিই আইনের প্রয়োগের মানদণ্ড হতে পারে না। সাবেক উপদেষ্টাদের প্রতিবাদকে তাঁদের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্বার্থান্বেষী বা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করাও যুক্তিসংগত নয়।

একইভাবে, কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করা হলে তার প্রতিবাদ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তাঁর দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ড, নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও নাগরিকদের রয়েছে। গণতন্ত্রে ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তির জবাবদিহি পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।

জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা যদি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হয়ে থাকে, তাহলে সেই আদর্শের পরীক্ষা হবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও। যারা মব-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ন্যায়বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিবাদকারীদের মতপ্রকাশের অধিকারও যথাযথভাবে রক্ষা করতে হবে।

ব্যক্তির মর্যাদা ও জবাবদিহি—দুটিই গণতন্ত্রের শর্ত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং বাংলাদেশে মব-সন্ত্রাস ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে চলমান বিতর্ক আমাদের একটি মৌলিক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়: গণতন্ত্র কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; এটি আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং জবাবদিহির ধারাবাহিক অনুশীলন।

কোনো ব্যক্তির প্রতি অসম্মানজনক আচরণ, শারীরিক হুমকি বা বেআইনি ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা বা ‘টেরোরিস্ট’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনাকে প্রেক্ষাপট ও আইনি উপাদান যাচাই না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করাও ন্যায়সংগত নয়। অপরাধের অভিযোগের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।

অতএব, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—মব-সহিংসতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে আইনগত দায়বদ্ধতার ভারসাম্য বজায় রাখা। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ রক্ষা কিংবা জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের নামে কোনো পক্ষকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন প্রতিশোধ নয়, প্রমাণ; জনতার শাস্তি নয়, স্বাধীন বিচার; এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, সর্বজনীন নৈতিকতা।

রাষ্ট্রের শক্তি জনতার ভয় সৃষ্টিতে নয়, নাগরিকের অধিকার রক্ষায়; গণতন্ত্রের শক্তি বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করায় নয়, বরং ভিন্নমতকে আইনের সুরক্ষার মধ্যে সহাবস্থানের সুযোগ দেওয়ায়। এই নীতিই হতে পারে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে উত্তরণের পথ।


 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন