মোঃ নাসির নিউ ইয়র্ক ||
কানাডা আমাদের শত্রু নয়; কানাডা আমাদের প্রতিবেশী, মিত্র এবং দীর্ঘদিনের সহযোগী। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সম্পর্ক যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন মার্কিন নেতাদের উচিত বাস্তববাদ, কূটনীতি এবং আমাদের পারস্পরিক স্বার্থের সঠিক উপলব্ধির মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করা।
আমি বিশ্বাস করি, কানাডা-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বাস্তবসম্মত ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত। বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অর্থ হলো আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং একই সাথে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশীদের সাথে সহযোগিতার গুরুত্বকে স্বীকার করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত, গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক, শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সহযোগিতা। সরকারগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে সেই মতপার্থক্য প্রতিবেশীকে শত্রুতে পরিণত করবে—এমনটা নয়।
শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দৃঢ় দরকষাকষির পাশাপাশি কূটনীতিও চলতে পারে; আর আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্য কানাডার সাথে বন্ধুত্ব বিসর্জন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
শক্তি ও কূটনীতি যে একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করতে পারে, তা প্রমাণ করার সুযোগ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে স্থিতিশীল ও সম্মানজনক সম্পর্ক কেবল উভয় দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের জন্যই কল্যাণকর।
কানাডা আমাদের প্রতিবেশী—শত্রু নয়। তাই বাস্তববাদ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, কূটনীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের সামনের পথ চলা উচিত।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন