রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
কন্যা সন্তানের বাবা-মা? দায়িত্ব তবে বেড়ে গেলো। দায়িত্বশীল বাবা-মা হতে চাইলে সমাজের চোখে কিঞ্চিৎ স্বার্থপর হতেই হবে। বাচ্চাকে কার কোলে দেন, কার কাছে রেখে যান, কার সাথে ঘুরতে পাঠান কিংবা কোন বাড়িতে বেড়াতে পাঠান- শতবার ভাববেন। কাদের সাথে খেলতে দেন, কাদের সাথে মিশতে দেন সেটাও পুনর্বিবেচনা করবেন। চারদিকে বিকৃত-মস্তিস্কধারী অমানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রযুক্তি নির্ভর অশ্লীলতার চিত্র উদগ্র বাসনাকে লাগামহীন করছে। কাজেই শুধু মেয়ে শিশুকে নয় বরং ছেলে শিশুকেও যার তার হাতে ছাড়বেন না, যেখানে সেখানে রাখবেন না। এখানে অনেকেই বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতিতে নাই। ধর্ষণ এবং বলৎকারের সংবাদে নাকাল নগর।
হাঁটতে যাওয়া কিংবা ঘুরতে চাওয়া- সব শখ আপনিই হাত ধরে পূরণ করুন। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা কুলঙ্গারদের চোখের ভাষা, মনের চাওয়া পড়তে চেষ্টা করুন। সন্তানের মা-বাবা হিসেবে আশেপাশের মানুষদের ইঙ্গিত পড়তে শেখা জরুরি। পরিচিতজনদের টিটকারি থেকেও শিশুদেরকে নিরাপদে রাখুন। শিশুদেরকে চিপস-চকলেট আপনিই কিনে দিন। শিশুকে শেখান- যার তার দেওয়া কোনোকিছু যাতে সে গ্রহণ না করে। যার-তার কোলে উঠতে দিবেন না, যার তার কাছে বসাবেন না। যার তার কাছে শোয়াবেন না। সম্পর্কে খুব আপন, তাদের কাছে শিশুদেরকে অগোচরে রাখার পরিস্থিতি এখন আর স্বাভাবিক নয়।
দুনিয়া অশনি বিচিত্রতায় বদলে যাচ্ছে। তোমার আমার শত্রুতার মধ্যে শিশুদেরকে টেনো না। সন্তানদের দিকে যারা অশুভ উদ্দেশ্যে হাত বাড়ায় তাদের হাত আস্ত থাকবে না। কী হচ্ছে চারদিকে? যে সমাজে গলাকাটা অবস্থায় শিশুকে জঙ্গল থেকে হাঁটতে হাঁটতে বের হতে হয়, দুই তিন বছরের শিষুও ধর্ষণের কবল থেকে নিস্তার পায় না- সে সমাজটাকে নিরাপদ মনে করেন? মানুষ প্রতিনিয়ত শয়তান হয়ে উঠছে। সমাজে অমানুষদের হাটবাজার বসা বন্ধ করতে হবে। এই সমাজ এই শিশুদের বাসযোগ্য করতে যা যা করা লাগে, যেকোনো মূল্যে তা করতেই হবে। একটা নির্ভয় ও নির্ভরতার সমাজ বিনির্মান আমাদের দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।
ধর্ষণের কঠিন ও সুষ্ঠু ন্যায় বিচার চাই। ধর্ষণের দ্রুত সুবিচার প্রত্যাশা করি। ধর্ষণের শাস্তি চাই মানে ধর্ষকের শাস্তি চাই। পূর্ববর্তী ধর্ষণগুলোর যারা বিচার করেনি তাদেরকেও বিচারের মুখোমুখি করতে না পারলে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অধ্যায় সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। শিশুদের ধর্ষককে সুরক্ষা দিতে যে আইনজীবীরা দাঁড়ায় তাদেরকেও সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। ধর্ষক, ধর্ষকের পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্তদের সামাজিকভাবেই লজ্জায় ফেলতে হবে। আল্লাহর কসম, সমাজ থেকে ধর্ষণকে চিরতরে বিদায় করতে মাত্র একটা নিয়মই চালু করতে হবে- ধর্ষণকারীকে হত্যা। হত্যার বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করা যেতে পারে কিন্তু শাস্তি কমানো নিয়ে আলোচনার কোনো বিকল্প সুযোগ রাখা ঠিক নয়।
আহারে ফুল! ফুলের শরীরেও যারা আঘাত করে, চড়ে বসে কিংবা হত্যা করে- ওরা কোন শ্রেণির জানোয়ার? সমাজটা দিন দিন মানুষের গ্রিপ থেকে অমানুষদের দখলে চলে যাচ্ছে। চারপাশে চলতে থাকা দানবদের দমাতে হবে। ঘাপটি মেরে থাকা জানোয়ারদেরকে চিহ্নিত করে সমগ্র সমাজে জুতার মালা দিয়ে, বিশেষ অঙ্গের সাথে ইট ঝুলিয়ে পথে পথে ঘুরাতে হবে। এহেন হায়েনাদের পাথর নিক্ষেপ করে খতম করে দেওয়ায় কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।
বদ্ধ ঘরে ধর্ষণের বিচার করলে তাতে সমাজের কোনো উপকার হবে না। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, প্রচার-প্রচারণা বাড়িয়ে জনসমক্ষে ধর্ষকের বিচার করতে হবে এবং যা শাস্তি নির্ধারিত হয় তা প্রকাশ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে সভ্যতা দেখালে সমাজে অসভ্যদের আস্ফালন বহাল থাকবে। আমাদের মা-বোন, স্ত্রী-কন্যার জন্য এই সমাজ-সংসার নিরাপদ রাখার জন্য ধর্ষক ও ধর্ষকামীদের বিরুদ্ধে কঠোরতার বিকল্প নাই। এই কঠোরতাই ন্যায়। এক্ষেত্রে শিথিলতা অন্যায়েকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন