মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \ গত ৪দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে আশা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রধান চারটি নদ নদীর পানি ধীওে ধীরে বাড়ছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুড়ী নদে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদে পানি বেড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি থাকলে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে পূর্ব নন্দীউড়া,করাই হাওর ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা জনিত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ উপজেলা মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং জগন্নাথপুর এলাকায় বেশকিছু ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। একইভাবে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মৌলভীবাজার শহরে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নি¤œাঞ্চলে পানি জমে আছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাজার, হাসপাতাল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল, যা দেশের অন্যতম বৃষ্টি প্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, সেখানে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে ঝড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার (৩০ নটিক্যাল মাইল) রেকর্ড করা হয়। এ ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের লাইন, রাস্তার উপর গাছপালা এবং হালকা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন