রোজা কেবল উপোস নয়

gbn

রাজু আহমেদ,  প্রাবন্ধিক।  

কত ঘন্টা না খেয়ে থেকে রোজা রাখলাম? ১২/১৪ ঘন্টার কম না। ক্ষুধায় নাড়ীভুঁড়ি কয়েকবার পাক দিয়েছে, তৃষ্ণায় খাদ্যনালী বারবার শুঁকিয়ে গেছে তবুও একফোঁটা পানিও পান করিনি। কেউ দেখতো না তবুও লুকিয়ে খাওয়ার চিন্তাও করিনি। দুর্বল হয়েছি, মাথা ঘুরিয়েছে তবুও মাগরিবের আজান পর্যন্ত ভূখা থেকেছি। কবে থেকে? যবে থেকে রোজা বুঝতে শিখেছি। 

 

যে আমি সারাদিন আল্লাহর হুকুম পালন করতে কিছুই খেলাম না, সে আমি কী করে অন্যের হক মেরে খাই? অনাদায়ী রাখি দায়িত্ব পালন? কোন বিবেকে অবৈধ ইনকামে জড়াই। কোন আক্কেলে আরেকজনের অধিকার আটকে রাখি? সারাদিন নিজেকে খাদ্য-পানাহার থেকে দূরে রাখলাম, সংযম করলাম অথচ ঘুষ ছাড়লাম না- কী লাভ হলো? হারামের পয়সায় আমার ইফতারি হলে দিনটা কুত্তা-উপোসেই গেলো। 

 

অফিসের কাজে ফাঁকি দিলাম, অনৈতিক কাজে জড়ালাম, মানুষকে ঠকালাম কিংবা কাউকে কষ্ট দিলাম- রোজার মাহাত্ম্য রাখলাম কই? রোজা রেখেও যদি মিথ্যা বলে মানুষকে প্রতারিত করি, সেবার নামে  গ্রাহককে ভোগান্তিতে ফেলি কিংবা ব্যবসার নামে জনগণকে জিম্মি করার সিন্ডিকেটে যুক্ত থাকি তবে আমি শোধরালাম কই? সারাদিন না খেয়ে থাকলাম, সাথে সাথে মিথ্যাচারও অব্যাহত রাখলাম- ফায়দা কী? শয়তানকে তবে কি আমার পিঠেই বন্দী করা হয়েছে? নয়তো এমন শয়তান কী করে হয়ে উঠলাম? 

 

অন্যের হক মেরে দিয়ে যদি বিরাট লেবাস ধারণ করি, কাউকে ঠকায়ে যদি সাধুর ছদ্মবেশে চলি- আর কেউ না হোক- রব তো বোঝেন? যাকে সন্তুষ্ট করতে নামাজ-রোজার আয়োজন, অন্যকে ঠকালে সেটা কি তিনি ধরবেন না? আটকাবেন না আখেরে? হারামে গড়া সম্পদ কতকাল আর আরাম দেবে? আত্মসাৎ করা কোনোকিছুই থাকে না বরং আরও নিয়ে যায়। যে সম্পদে অন্যের অভিশাপ আর দীর্ঘশ্বাস মাখা তা দিয়ে একজীবনের কোনোদিনও সুখ হবে না। ভোগ আর নৈতিক সুখ সমান্তরালে চলে না। অথচ আমরা উপভোগ বুঝতে পারলে সুখ খুঁজতে হতো না- ধরা দিত। 

 

খোদার আদেশ মানতেই হবে। যেভাবে নিয়তে রোজা থাকি সেই আবেগেই যেন অন্যের জন্য উপকারেও থাকি। কারো অপকারে যদি জড়িয়ে যাই, কারো কান্নার কারণ হই তবে আমার রোজকার রোজা, রুকু আর সিজদাহ্ কেবল উপোসে এবং আচারেই পরিণত হতে পারে। লোকে আমাকে রোজাদার বলুক- এই কারনের রোজাদার যেন না হই। যার অধিকার, যার যা হক তা তাকে ফিরিয়ে দিলে নামাজ-রোজার হিসাব সহজ হবে। সারাদিন না খেয়ে থাকলাম কিন্তু হালাল-হারামের বাছবিচার করলাম না- খুব একটা লাভ হবে না বরং লোকসান বাড়বে।

 

প্রচন্ড ক্ষুধার কষ্ট হোক কিন্তু কোনো অন্যায় অর্জনের প্রতি লোভ না লাগুক। ইফতারি, সাহরিতে খুব সাদামাটা আয়োজন হোক তবুও তাতে হারামের সংস্পর্শ না থাকুক। তেমন আয়েশি জীবনের প্রত্যাশা না হোক যে জীবনে অন্যের অধিকার জিম্মি হয়। ভাই-বোনের হক যথাযথ বন্টিত হোক। বাবা-মা তাদের প্রাপ্য দরদ বুঝে পাক। প্রতিবেশীদের প্রতি দরদ-দিল না হলে তিনি ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারে না- এই সত্য আমাদের বিবেক থেকেই উম্মোচিত করুক। শক্তি কিংবা ক্ষমতা আমাদের জীবনাচারের অনুষঙ্গ না হয়ে যেন বিনয় এবং কৃতজ্ঞতাবোধ সদা জাগ্রত থাকে- আমাদের সম্মিলিত প্রার্থনা তাই হোক, তাই হোক।

 

 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন