জনবল সংকট বহি: বিভাগে ফার্মাসিস্টের পরিবর্তে ওষুধ বিতরণ

131
gb

 ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা //

জনবল সংকটে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহি: বিভাগে ফার্মাসিস্টের পরিবর্তে ওষুধ বিতরণ করছেন জুনিয়র মেকানিক্স। প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।৬ লক্ষাধিক জনগণ অধ্যুষিত এ উপজেলার গরিব নিরীহ রোগীরা হচ্ছেন ভোগান্তির শিকার। চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্য সেবা অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বহি: বিভাগের রোগীরা। কারণ বহি: বিভাগে ফার্মাসিস্টের পরিবর্তে রোগীদের মাঝে ওষুধ বিতরণ করছেন জুনিয়র মেকানিক্স আব্দুল মালেক। অথচ ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসী কোর্স সম্পূর্ণ করার পর ফার্মাসিস্ট পদে লোক নিয়োগ দেয়া হয়। ঝুঁকির কারণ হচ্ছে ওষুধ বিতরণে ভুল হলেই রোগীর অপচিকিৎসা দেয়া হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছে মাত্র ৬ জন। জনসংখ্যা অনুযায়ী এক লাখ জনগণের জন্য চিকিৎসক এক জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী/অব:, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনে, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, ডেন্টাল সার্জন, সিনিয়র স্ট্যাফ নার্স, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্ট পদগুলো দীর্ঘদিন থেকে শুন্য রয়েছে। উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ১৫টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেখানেও অনেক পদ শুন্য রয়েছে। এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ৬ জন মেডিকেল অফিসার, ৮ জন সহকারী সার্জন, ১২ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং ৬ জন ফার্মাসিস্টের পদ শুন্য রয়েছে। বামনডাঙ্গা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এখানে মেডিকেল অফিসার ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার যোগদান করলেও চিকিৎসা দিচ্ছেন অফিস সহায়ক। অফিস সহায়ক আইনুল হক জানান, স্যারেরা কাজ করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসংখ্য রোগীর আগমন ঘটলেও কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে তারা বাইরের ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বহি: বিভাগে ওষুধ বিতরনকারী জুনিয়র মেকানিক্স আব্দুল মালেক জানান, আমার কাজ এটা নয়। কিন্তু অফিস আমাকে এই কাজে নিয়োজিত করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মো: ইয়াকুব আলী মোড়ল জানান, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় জুনিয়র মেকানিক্স দ্বারা ফার্মাসিস্টের কাজ করে নেয়া হচ্ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও এখনও সে তুলনায় জনবল আসেনি। ফলে চিকিৎসা দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চাপের মধ্যে থেকেও ডাক্তাররা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নজর দিয়ে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল সমস্যার সমাধান করবেন।