“এই ইউনিট আমাদের জন্য সবকিছু” – হারমিটেজ প্রাইমারি স্কুলে নতুন অটিজম রিসোর্স প্রভিশনের উদ্বোধন

gbn

এই সপ্তাহে টাওয়ার হ্যামলেটসের হারমিটেজ প্রাইমারি স্কুলে অটিজম–সম্পন্ন শিশুদের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত নতুন রিসোর্স প্রভিশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।

‘অ্যাথেনা’ নামের এই নতুন ইউনিটটি বারায় উচ্চমানের বিশেষায়িত শিক্ষাস্থানের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি প্রাইমারি স্কুল বয়সী অটিজম-সম্পন্ন শিশুদের জন্য উপযোগী ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

নতুন এই সুবিধাটি হারমিটেজ প্রাইমারি স্কুলের অতিরিক্ত ইউনিট হিসেবে নির্মিত হয়েছে। এটি একটি আলাদা, উদ্দেশ্য-নির্ভরভাবে নির্মিত স্থান, যা একই সঙ্গে বিদ্যমান স্কুল কমিউনিটির বিস্তৃত সহায়তা ও সম্পদ থেকেও উপকৃত হবে। এখানে সর্বোচ্চ ১২ জন শিক্ষার্থী সহায়তা পাবে। অটিজম শিক্ষার সর্বোত্তম চর্চার ভিত্তিতে গড়ে তোলা এই ইউনিটে থাকবে যত্নশীল ও সেন্সরি-সচেতন পরিবেশ।

সুবিধাটিতে বিশেষায়িত সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে, যা সেন্সরি চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করবে এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যকর শিক্ষা প্রদানে সহায়তা করবে।

এর মধ্যে রয়েছে এমন শ্রেণিকক্ষ যেখানে আলো-র উজ্জ্বলতা ও রঙ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেন্সরি রুম যেখানে ট্যাকটাইল খেলার ব্যবস্থা ও ভিজ্যুয়াল উপকরণ রয়েছে, যা শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে। পাশাপাশি এমন উপকরণও রয়েছে, যা শিশুদের তাদের প্রয়োজন শিক্ষককে জানাতে সহায়তা করে।

ডেপুটি মেয়র এবং শিক্ষা, যুব ও আজীবন শিক্ষাবিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “হারমিটেজ প্রাইমারি স্কুলে এই বিশেষায়িত অটিজম রিসোর্স প্রভিশনের উদ্বোধন দেখতে পেরে আমি গর্বিত। এটি বোঝাপড়া, অন্তর্ভুক্তি এবং উচ্চমানের সহায়তার ভিত্তিতে গড়ে তোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।"

তিনি বলেন, “এই অতিরিক্ত স্কুল রিসোর্সের মাধ্যমে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শেখার এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। আমি আশা করি, এটি আমাদের বারার শিশু ও পরিবারগুলোর জীবনে বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনবে, এবং আমরা এটি সমর্থন করতে পেরে গর্বিত।”

অভিবাক রাহেনা বেগম, যার ছেলে ওয়াসিম এই অটিজম প্রভিশনে পড়ে, তিনি বলেন, “এই ইউনিট আমাদের জন্য সবকিছু। এর অর্থ হলো, ওয়াসিমের ভবিষ্যৎ অন্য সব শিশুর মতোই উজ্জ্বল হবে। মেইনস্ট্রিম ক্লাসে সে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতো, কারণ সে সেভাবে শেখার সুযোগ পেত না। এখন তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং তার সেন্সরি চাহিদা পূরণ হচ্ছে। তার জন্য উপযোগী কারিকুলাম থাকায় সে ভালো করছে, এবং নতুন এই ক্লাস তাকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এখন সে আমাদের বলতে পারে সে কী চায় আর কী চায় না।

রেহানা বলেন, “সে এখন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখছে - যেমন দাঁত ব্রাশ করা, স্থানীয় কমিউনিটিতে চলাফেরা করা এবং সাঁতার শেখা। এগুলো তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রতিভাগুলো এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অভিভাবক হিসেবে আমার যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমে গেছে। কারণ আমি জানি সে প্রয়োজনীয় ও প্রাপ্য সহায়তা পাচ্ছে। এখন বিশ্ব নিউরোডাইভারসিটি সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে, কিন্তু এই স্কুলই সম্ভবত সেই জায়গা যেখানে সে সবচেয়ে বেশি স্বাগত। এমন স্কুল থাকার অর্থ হলো জটিল চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বোঝা হয় এবং অন্তর্ভুক্ত হয়।”

২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রথম শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই ইউনিটটি ধাপে ধাপে চালু হয়, এবং পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে।

এই প্রকল্পটি £২.৩৭ মিলিয়ন অর্থায়নে, হাই নিডস প্রভিশন ক্যাপিটাল অ্যালোকেশন (এইচএনপিসিএ) অনুদান থেকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে কাউন্সিলের নিজস্ব টিম ও সরবরাহকারীরা, যেখানে আর্ক পিএলসি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসে এসইএনডি বা সেন্ড গ্রুপভুক্ত শিশু ও তরুণদের সহায়তায় কাউন্সিল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন অটিজম প্রভিশনের পাশাপাশি, ১৬-২৫ বছর বয়সী এসইএন তরুণদের ট্রানজিশন সহায়তায় £৯০০ হাজার এবং ১৮-৩০ বছর বয়সী এসইএনডি তরুণদের জন্য অতিরিক্ত ৫ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে জীবন-দক্ষতা কর্মসূচি ও কর্মসংস্থানে প্রবেশের সহায়তামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা হবে।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন