জিবি নিউজ প্রতিনিধি//
বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী দর্জি প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ নারী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের কলেজ রোডস্থ শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি মো.সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের উপদেষ্টা ও পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা শুভ সংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ, শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মো.সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাস, শ্রীমঙ্গল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সাংবাদিক এম এ রকিব ও বসুন্ধরা শুভ সংঘের জেলা সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না, রাশিদ মেহেরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন, দৈনিক কালের কন্ঠের কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলা নিউজের বিশ্বজিৎ ভট্রাচার্য বাপন ও বসুন্ধরা শুভ সংঘের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির এলাহী, বসুন্ধরা শুভ সংঘের শ্রীমঙ্গল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো.সুজন মিয়া।
অনুষ্ঠানে শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের নারী উন্নয়ন, শিক্ষাবৃত্তি, গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণসহ অসংখ্য মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতভাবে কাজ করছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে দাঁড় করাতে এই উদ্যোগ আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ।
কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা উপকারভোগী স্মৃতি রাণী কর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। স্বামী আমার আসে না। এই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন চালিয়ে বাকি জীবন বদলাবো। এখন আমি নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবো। ধন্যবাদ বসুন্ধরা শুভ সংঘকে।
উপকারভোগি মুক্তা রানী বলেন, এখন থেকে আমি সেলাই মেশিনে কাজ করে পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করতে পারব। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাল থাকব। বসুন্ধরা শুভ সংঘকে ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন উপকার ভোগীদের উদ্দেশ্য বলেন, সেলাই মেশিন চালানো শিখেছো? --- জি¦। তোমাদের কি শিখোনো হয়েছে ?--- জি¦। এতটুকু এতটুকু বাচ্চারা শিখে ফেলেছো ?---- জি¦। কি করবে এই সেলাই মেশিন দিয়ে .... ? আয় করবো। কেন বললাম এই কথা এপর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার সেলাই মেশিন দিয়েছি বিভিন্ন জায়গায়। এই কথা জিজ্ঞেস করি এ জন্য যে এটা যদি কেউ বিক্রি করে দেয় তাহলে ৭-৮ হাজার টাকা পাবে, তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু এই সেলাই মেশিনটা যদি আপনারা বা তোমরা ব্যবহার করো ঠিক মতো তাহলে এটা দিয়ে অনেক আয় করতে পারবে সংসারের জন্য।
যদি বাহিরের কাছ না কারো একটি পরিবারে সারা বছর সংসারের মানুষগুলোর জামা-কাপড় - সেগুলো যদি সেলাই করা হয় তাহলে দেখবেন বড় ধরণের টাকা সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, একটা হাতিয়ার তুলে দিলাম । এই হাতিয়া দিয়ে জীবন বদলানোর চেষ্টা করেন । এই হাতিয়ারটি ওরা যদি সত্যি সত্যি ব্যবহার করে, নিজেরার কাজগুলো করে বা আপনারা করেন তাহলে সংসারের চেহারাটা বদলাবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান জুড়ে নারীদের মুখে ছিল আনন্দ ও স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে আরও নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন