ওয়েষ্ট লন্ডনের হাউন্সলোতে আদর্শ পরিবার গঠনে সন্তানদের প্রতি মা-বাবার করণীয় শীর্ষক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

580
gb

ওয়েষ্ট লন্ডন, ১৮ মার্চ ২০১৮ ||
সিটি মুসলিম সোসাইটির (সিএমএস) উদ্যোগে ওয়েষ্ট লন্ডনের হাউন্সলো জামে মসজিদে ১৮ মার্চ এক ফ্যামিলি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। আদর্শ পরিবার গঠনে সন্তানদের প্রতি মা-বাবার করণীয় শীর্ষক এই কনফারেন্সে ওয়েষ্ট লন্ডনে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী পরিবার অংশগ্রহণ করে। আব্দুল খালেকের তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচিত এই কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ কাহির উদ্দিন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আফজাল মিয়া। এতে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, মানচেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন ফারাদী, কমিউনিটি লিডার নেসার আহমদ এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, ওয়েষ্ট লন্ডন মুসলিম সেন্টারের ইমাম শায়খ আবু সাঈদ আনসারী।


অনুষ্ঠানে বক্তারা নিজেদের পরিবারকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলে ছেলেমেয়েদের এদেশের সুযোগ্য নাগরিক ও ভালো মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, আমাদের সন্তানরাই আমাদের ভবিষ্যত। তাদেরকে সুশিক্ষা দিলে তাদের ভবিষ্যত ভালো হবে – দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
ড. ইমরানুল হক বলেন, আমরা বৃটিশ মুসলিম – এদেশেরই নাগরিক, তাই বৃটেনের জনগণের কাছে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে। তবে ইসলামের দাওয়াতী কাজ নিজেদের ঘর থেকে শুরু করলে প্রতিটি পরিবার যেমন উপকৃত হবে তেমনি সমাজও উপকৃত হবে। তিনি বলেন, মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে উত্তম আমল আখলাক ও চরিত্র মাধুর্য্য দিয়ে সমাজে বসবাসরত অন্যান্য মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। এদেশকে আপন করে নিতে হবে। তিনি উপস্থিত সকলকে সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস’র ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সঠিক ইসলামী জ্ঞানের অভাবেই তারা বিপথগামী হয়। তাই তাদেরকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান দিতে হবে। তাদের সাথে ধমকের সুরে কথা না বলে পজিটিভভাবে দ্বীনের শিক্ষা দিতে হবে।
শিক্ষাবিদ মুসলেহ ফারাদী তার বক্তব্যে প্যারেন্টিং নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি স্বামী-স্ত্রীর সুসম্পর্ক, ছেলেমেয়েদের সাথে ভালো সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা, পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ এবং পিতামাতাকে সন্তানদের সামনে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের জন্য নিজেরা স্বপ্ন না দেখে তাদেরকে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাদেরকে অন্য কারো সাথে তুলনা করা উচিত নয়। তারা কিভাবে স্বাধীনভাবে নিজেরাই নিজেদের কাজ করতে পারে সে শিক্ষা তাদের দেয়া উচিত। তারা যাতে নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে সেজন্যে ছোটবেলা থেকেই ট্রেনিং দিতে হবে। তাদেরকে শিক্ষাদীক্ষা দেবার পাশাপাশি কায়োমনোবাক্যে তাদের জন্য দোআ করা এবং সবাই মিলে কিভাবে জান্নাতে যাওয়া যায় সে লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে তিনি উপস্থিত পিতামাতার প্রতি আহবান জানান।