যুক্তরাজ্যে বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তোলপাড়

369
gb

জিবি নিউজ২৪ ডেস্ক||

কম্যুনিস্ট গুপ্তচর ছিলেন বৃটেনের বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন! এমন ভয়াবহ এক অভিযোগ এনেছেন চেক প্রজাতন্ত্রের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। বৃটেনের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ফলাও করে এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে খুব কড়া ভাষায় এই খবর অস্বীকার করেছেন করবিন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, করবিনের বিরুদ্ধে এমন দাবি প্রকাশের জেরে ডানপন্থি সংবাদপত্রগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র বাকযুদ্ধে নেমেছে লেবার পার্টি। দলটি বলছে, জেরেমি করবিন আশির দশকে চেকস্লোভাকিয়ার চর ছিলেন- এ দাবি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর।
এমনকি করবিনের আইনজীবীরা শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বেন ব্রাডলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ওই এমপি বারবার তার টুইটে করবিনের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগের কথা প্রকাশ করেন। পরে ওই এমপি টুইট মুছে দিলেও, পিছু ছড়েন নি আইনজীবীরা।
করবিনের মুখপাত্র বলেন, গণমাধ্যমের একটা বড় অংশের মালিকই হলো বিলিনিয়াররা, যারা আয়কর ফাঁকি দেন। করবিন এই আয়কর ফাঁকি রোধ করতে চান বলেই তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও আপত্তিকর প্রতিবেদন ছেপে যাচ্ছে ওই বিলিয়নিয়ারদের মালিকানার পত্রিকাগুলো।
উল্লেখ্য, দ্য সান, ডেইলি মেইল ও এক্সপ্রেস পত্রিকা এই খবর প্রকাশ করেছে। করবিনের মুখপাত্র বলেন, এই পত্রিকাগুলোর বিলিয়নিয়ার মালিকরা লেবার ক্ষমতায় আসতে পারে বলে ভীত। কারণ, লেবার সরকার মিডিয়ার মালিকানার ব্যাপারে ¯পষ্টতা নিশ্চিত ও আয়কর ফাঁকির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, এসব পত্রিকার বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছেন করবিন। অথচ, তার পূর্বসুরি লেবার দলের নেতারা এসব পত্রিকার সমর্থন কামনা করতেন। কিন্তু করবিন এখন বিশ্বাস করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি মূলধারার গণমাধ্যমকে এড়িয়েই জনগণের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হবেন। এ কারণে মূলধারার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামতে তিনি দ্বিধা বোধ করছেন না।
করবিনের মুখপাত্র বলেন, ১৯৮৬ সালে চেকস্লোভাকিয়ার এক কূটনীতিকের সঙ্গে লেবার নেতা সাক্ষাৎ করেন। একজন এমপি হিসেবে তখন অনেক কূটনীতিক ও রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গেই করবিন এমন সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি তার।
অপরদিকে কনজারভেটিভ এমপি ব্রাডলির বিরুদ্ধে করবিনের আইনজীবীদের পাঠানো নোটিশে বলা হয়, আপনি বোঝাতে চান যে, আমাদের গ্রাহক (করবিন) ফৌজদারি অপরাধ করেছেন এবং গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এই বক্তব্য প্রদানের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও করবিনের পছন্দসই একটি দাতব্য সংস্থায় অর্থ দান না করলে, তিনি মামলা করবেন।
ব্রাডলি তার টুইটে লিখেছিলেন, করবিন বৃটেনের গোপন তথ্য কমিউনিস্ট গোয়েন্দাদের কাছে বিক্রি করেছেন। পরে তিনি ওই টুইট মুছে দেন। কিন্তু তারপরও করবিনের আইনজীবীরা বলছেন, আপনার ওই মানহানিকর মন্তব্যের ফলে আমাদের গ্রাহকের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাই আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
সাবেক কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র চেক প্রজাতন্ত্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, করবিন একসময় তাদের গুপ্তচর ছিলেন। এজন্য করবিন সহ আরও কয়েকজন বৃটিশ এমপি ১০ হাজার পাউন্ড নিয়েছিলেন। দ্য সান প্রথম এই সংবাদ প্রকাশ করে। এ খবর লুফে নিয়ে বৃটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘করবিন একটি শত্রুরাষ্ট্রের গোয়েন্দার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাকে কোনো কিছু নিয়ে বিশ্বাস করা যায় না। বৃটেনের যা কিছু মহান, তার বিরুদ্ধে করবিন।’ কিন্তু একজন গুপ্তচরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেই কি কেউ গুপ্তচর হয়ে যায়? গুপ্তচররা সাধারণত অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিজের পরিচয় প্রকাশ করা ছাড়া। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে করবিনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংসদ সদস্যদের উচিত আরও স্বচ্ছতা দেখানো।
কিন্তু সাবেক চেক প্রজাতন্ত্রের গোয়েন্দা সংস্থার আর্কাইভ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, তাদের নথিপত্র অনুযায়ী, জেরেমি করবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি ছিলেন না। ভেতলেনা পানিকভা নামে ওই কর্মকর্তা বলেন, জেরেমি করবিন চেক প্রজাতন্ত্রের গোয়েন্দা সংস্থার কোনো গোপন সহযোগী ছিলেন না। তার নামে যে ফাইলটি আমাদের কাছে আছে সেটি শুন্য দিয়ে শুরু। তিনি যদি চর হতেন, তাহলে ৪ দিয়ে শুরু হতো।
নিজের সমাজতন্ত্রী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য খ্যাত জেরেমি করবিন। বহু বছর ধরে ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও হুগো শ্যাভেজের মতো বিপ্লবী ও বামপন্থী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তার। এ নিয়ে প্রায়ই তাকে আক্রমণ করেন প্রতিপক্ষ রক্ষণশীলরা।