চট্টগ্রামে ক্যাব’র পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত

253
gb

 

জিবিনিউজ24 ||

পোল্ট্রি ফিডের মান পরীক্ষায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দাবিপোল্ট্রি শিল্প দেশের সাধারন ভোক্তাদের চাহিদার কারনে পরিধি বিস্তৃতি লাভ করেছে, সেকারনেপোল্ট্রি শিল্পের ফিড তৈরীতে বেশ কিছু মাল বিদেশ থেকে আমাদানি করা হচ্ছে। আমদানিকতৃ
উপকরণ ও কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সইউনির্ভাসিটির পোল্ট্রি রিচার্স ও ট্রেনিং সেন্টারের ল্যাবে পরীক্ষার পরে খালাসের অনুমতি পায়।কিন্তু পোল্ট্রি ফিড উপকরণ ও কাঁচামালগুলি পরীক্ষণ কার্যক্রমে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সম্পৃক্ততা নাথাকায় নমুনা সংগ্রহের যথাযথ নিরপেক্ষতা ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। আমদানিকারক ও
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ইচ্ছামতো নমুনা পাঠানোর কারনে ফিড পরীক্ষণ প্রক্রিয়ায়কিছুটা দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে। যদিও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সইউনিভার্সিটির পোল্ট্রি রিচার্স ও ট্রেনিং সেন্টারের নিজস্ব ল্যাবে আর্ন্তজাতিক মানের
পোল্ট্রি ফিড ও খাদ্য পণ্যের মান পরীক্ষার অত্যাধুনিক সুবিধা আছে। সে কারনে এ ল্যাবেরসুবিধাগুলির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পের ফিডের মান নিশ্চিত করা, খাদ্য পণ্যপরীক্ষন সেবা প্রদানে প্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিক সুযোগ সুবিধাগুলির যথাযথ ব্যবহার ও এ সমস্তপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃ সমন্বয় জোরদার এবং ভোক্তা সংরক্ষন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সাথেকার্যকর নেটওয়াকিং সম্পর্ক জোরদারে আহবান জানানো হয়। ১৯ ফেব্রæয়ারি ২০১৮ইং খুলসীস্থচট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স ইউনিভার্সিটির পোল্ট্রি রিচার্স ও ট্রেনিংসেন্টারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকতার সাথে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় স্বার্থসংরক্ষনকারীপ্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম অনুষ্ঠিতঅ্যাডভোকেসী সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রিয়াজুল হক জসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষঅতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স ইউনিভার্সিটির পোল্ট্রিরিচার্স ও ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, আলোচনায় অংশনেন ক্যাবকেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীসাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্বআবদুল মান্নান, পাঁচলাইশ থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সেতু ভুষন দাস, ডবলমুরিং থানাপ্র্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রফিবুল হাসান, ক্যাব চট্টগ্রামের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মশিউরহমান প্রমুখ।সভায় বলা হয় দেশের সাধারন মানুষের প্রাণীজ আমিষের সিংহভাগ পোল্ট্রি শিল্প যোগান দিলেপ্রাণী সম্পদ অফিসের প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে জনগনের কাছে এ শিল্পের বিষয়ে সঠিক তথ্য
পোৗঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও পশু জবাই ও মাংশ নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণীত হলেও বিধিমালা
তৈরীসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক জঠিলতায় জনগনের কাছে কাংখিত সেবা পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে
না দেশের প্রাণী সম্পদ বিভাগ। অন্যদিকে কিছু মানহীন পোল্ট্রি ফিড বাজারজাত, খুচরাপোল্ট্রি বিক্রেতারা যত্রতত্র অপরিস্কারাছন্ন ভাবে পোল্ট্রি জবাই ও বিক্রি করলেও তার যথাযথ নজরদারিসম্ভব হচ্ছে না। নিরাপদ খাদ্য ও পোল্ট্রি বিষয়ে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকায় এখাতেউদ্যোক্তারা ন্যায্য মুনাফা পাচ্ছে না। ফলে অনেক পোল্ট্রি শিল্পে জড়িত উদ্যোক্তা ও খামারীরা খামারমাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। আর শিল্প উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হলে দেশীয় প্রাণীজ আমিষেরযোগান হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেশীয় প্রাণীজ আমিষের যোগান ঠিক রাখতে পোল্ট্রি শিল্পেরসাথে জড়িত পোল্ট্রি ফিড উৎপাদক, ডিলার, খামারী ও ব্রয়লার উৎপাদকদের নিরাপদ ও মানসম্মত
পোল্ট্রি খাবার, উৎপাদন, সরবরাহ এবং খুচরা পর্যায়ে লাইভ বার্ড বিক্রিতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশনিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারন ভোক্তা-ক্রেতা পর্যায়েসচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সইউনিভার্সিটির পোল্ট্রি রিচার্স ও ট্রেনিং সেন্টার ও ক্যাব যৌথ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনার
উদ্যোগ গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।