পলাশবাড়ীতে ভুট্রা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

221
gb

 

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলারপ্রত্যান্ত অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ভুট্রা চাষের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাদেখা দিয়েছে। অল্প দিনে কম খরচে কৃষকরা অতি লাভবান হওয়ায় ভুট্রাচাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কম পুজিঁ, ঝুঁকিহীন, সেচ ওসার প্রয়োগে সুবিধা বলেই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে রীতিমত ভুট্রাচাষের প্রতিযোগীতা চলছে। এবারে ভুট্রা চাষে আশানুরুপ ফলন পাওয়ারআশায় কৃষকদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। অন্য ক্ষেতের ন্যায়ঝুঁকিপূর্ণ না হওয়ায় কৃষকরা বেশী বেশী ভুট্রার চাষের দিকেঝুঁকে পড়েছেন। এখানকার উৎপাদিত ভুট্রা চাহিদা মিটিয়ে অন্যজেলায়ও নেওয়া হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।পলাশবাড়ী উপজেলার বড় শিমুলতলা গ্রামের কৃষক গোলাম কিবরিয়া
জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরী সহযোগীতা পেলেগ্রামীণ কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে সহায়ক ভূমিকা
রাখতে পারবে। উন্নত জাতের ভুট্রা চাষ করে কৃষকরা প্রচুর টাকাআয়ের মাধ্যমে জীবন জীবিকায় অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।সরেজমিনে জানা যায়, মহদীপুর, কিশোরগাড়ী, হোসেনপুর,বরিশালবেতকাপা, পবনাপুর, মনোহরপুর ইউনিয়ন সহ অন্যন্যা ইউনিয়নেরবিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্রা চাষ করে আসছেন। এখানকারকৃষি-অকৃষি পরিবারগুলো সহজে ওতপ্রোতভাবে ভুট্রা চাষ করে বেশীবেশী টাকা আয় করছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। ভুট্টাচাষীদের অনুকরণ করে অন্য চাষে নিয়োজিত কৃষকরাও বর্তমানে এ চাষেরদিকে মনোযোগী হচ্ছে।উপজেলার মংলেশপুর গ্রামের ভুট্রা চাষী নয়ন মিয়া জানান, মাত্র ৯০-১২০দিনের মধ্যে ভুট্টা বা মক্কা গোলার ফলন ঘরে তুলতে পারে। প্রতি বছরশীত কালীন মৌমুমে কৃষকরা ভুট্টা বীজ বপন করে থাকে। মৌসুমেরশেষের দিকে এ ফলন বাজারে বিক্রি করে। বীজ মাটিতে বপন করে পুরোসিজনে শুধুমাত্র ১-২ বার জমিতে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ ক্ষেতেবিঘা প্রতি কৃষককে মাত্র ২-৩বস্তা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়।চেরেঙ্গা এলাকার ভুট্রা চাষী আবু বকর জানায়, একবিঘা জমিতে১২হাজার ভুট্টার বীজ বপন করা যায়। একেকটি গাছে ২-৩টি ফল ধরে।সাধারণ কৃষকরাও ভুট্টা ক্ষেত করে সহজেই লক্ষাধিক টাকা আয় করছে।
অন্য চাষের চাইতে ভুট্টা চাষে কল্পনাতীত টাকা আয় করা সম্ভব বলেতিনি জানান।পলাশবাড়ী উপজেলার গ্রামীণ কৃষককূলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেনজানিয়ে কৃষক আব্দুস মহির মন্ডল বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগীতাছাড়াই এখানকার কৃষকরা অন্য ক্ষেতের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করে আসছে।কৃষি অধিদপ্তরের কারিগরী সহযোগীতা পেলেই কৃষকরা আরো বেশীলাভবান হবে।পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, চলতিমৌসুমে ভুট্রা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪শ হেক্টর। তাছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে ৬শ হেক্টর।
তিনি আরও জানান, নতুন জাত সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমেআমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করে যাচ্ছি। যে কোন চাষে
কৃষকদের কারিগরী সহায়তা প্রদানে আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।