ভুল তথ্যে ভরা সিলেট এমসি কলেজের ওয়েবসাইট!

821
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

সিলেটের প্রাচীন তথা দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ। ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই কলেজটি তাঁর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে যুগ যুগ ধরে। শিক্ষাব্যবস্থা আর সৌন্দর্যের কারণে কলেজটি সিলেটবাসীর খুব প্রিয় স্থান এই কলেজটি।

সবদিক দিয়ে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের নেতৃত্বে থাকলেও পিছিয়ে আছে ওয়েবসাইটের দিক থেকে। ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের একটি ওয়েবসাইট (www.mccollege.edu.bd) থাকলেও এর অবস্থা খুবই বেহাল। একে তো নেই হালনাগাদ আরেকদিকে ভুল তথ্যে ভরা থাকায় ওয়েবসাইটটি উপকারের বদলে কলেজের জন্য হয়ে দাড়িয়েছে অসম্মানের।

ওয়েবসাইটের হোম বাটনে ক্লিক করে দেখা যায় এমসি কলেজের পুরাতন প্রধান ফটকের ছবি এখনো বহাল রয়েছে! কিন্তু এরই মধ্যে কলেজের নবনির্মিত প্রধান ফটক আলোর মুখ দেখেছে।

ওয়েবসাইটিতে ঢুঁ মেরে দেখা যায়, হলিডে ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কোনো তথ্য নেই।  লেখা আছে উইল বি আপডেট! শুধু তাই নয় কোনো বিভাগের ক্লাশ রুটিনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। এছাড়া রাজস্ব খাত ভূক্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারীদের কোনো তথ্য নেই ওয়েবসাইটে।  অথচ শুধু এগুলোর বাটনই বহাল আছে।  ক্লিক করে কোনো তথ্য মেলেনি।

ফ্যাকাল্টিস বাটনে ক্লিক করে দেখা যায় এখানে লাইব্রেরি ও হোস্টেলের তথ্য দেওয়া আছে।  ওয়েসবাইটের লাইব্রেরি বাটনের তথ্য অনুযায়ী মোট বইয়ের পরিমান দেখানো হয়েছে ২৩,৬৬৭টি।  অথচ, ওয়েবসাইটে উল্লেখযোগ্য মাত্র ১০০টি বইয়ের তালিকা দেওয়া রয়েছে। কলেজরে গ্রন্থাগারিক জানান লাইব্রেরিতে বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা ২৪ হাজারের উপরে।

ওয়েবসাইটের ৭ নম্বর বাটনে ‘ইভেন্ট’ নামে একটি বাটনে আছে।  সেখানে ২০১৫ সালের একটি ইভেন্টের কথা উল্লেখ থাকলে ২০১৫ এর পরের কোনো ইভেন্ট এর কথা উল্লেখ নেই ।

ওয়েবসাইটের ৯ নম্বর বাটনে রেজালটের (ফলাফল) অপশনে কোনো ডাটা উল্লেখ নেই।  এইচএসসি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা ডিগ্রী (পাস) পর্যায়ের শ্রেণিগুলোর কোনো ফলাফল খুঁজে পাওয়া যায় নি।

ওয়েবসাইটে ১৪টি ডিপার্টমেন্ট এর কথা উল্লেখ রয়েছে।  কিন্তু এমসি কলেজে স্নাতক শ্রেণির ডিপার্টমেন্ট আছে ১৬টি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৪র্থ বর্ষের ছাত্র সোহেল আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে রাখছে দেশের সবকটি সেক্টর।  এমসি কলেজের মতো শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের এমন বেহাল অবস্থা আশাই করা যায় না।  দ্রুত হালনাগাদ করার দাবী জানাই। ‘

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলা বিভাগে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক আছেন ০৯ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে ০৫ জন।   বাংলা বিভাগে বর্তমানে অধ্যয়নরত আছেন প্রায় ১,০০০ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটের ইনফরমেশন বাটনে দেওয়া আছে ৬৩৫ জন।  বাংলা বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন বাটনে ক্লিক করে দেখা যায় যায়, এখানে মাত্র ০১ জন ছাত্রের তালিকা দেওয়া আছে।  নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই তিনটি বাটনে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  তিনটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।  ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের ফলাফল দেওয়া আছে।  কিন্তু ২০১০ সালের পর মাস্টার্স শেষ পর্বের ফলাফলের হিসাব আপডেট করা হয় নি ওয়েবসাইটটিতে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞান (বোটানি) বিভাগে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক আছেন ১২ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে ০৮ জন।  ওয়েবসাইটটিতে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটিতে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

রসায়ন বিভাগে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক আছেন ১৩জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে মাত্র ০৫ জন শিক্ষকের তথ্য। ওয়বসাইটটিতে রসায়ন বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটটিতে রসায়ন বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

ইংরেজি বিভাগে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৯ জন। কিন্তু ওয়বসাইটে তথ্য দেওয়া আছে ০৫ জন শিক্ষকের।  ওয়েবসাইটটিতে ইংরেজি বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটটিতে ইংরেজি বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

ইতিহাস বিভাগে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটিতে উল্লেখ আছে মাত্র দুজন শিক্ষকের কথা।  ওয়েবসাইটটিতে ইতিহাস বিভাগে বর্তমানে কতজন অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওয়েবসাইটিতে ইতিহাস বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

ইসলামের ইতিহাসে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫ জন শিক্ষক।  কিন্তু ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে ০৩ জন শিক্ষকের কথা।  ইসলামের ইতিহাসের ইনফরমেশন বাটনে ২০১০-১১ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের ফলাফলের কৃত্বিতের কথা উল্লেখ থাকলেও ২০১২ সালে পর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মাস্টার্স শেষ পর্বের কোনো ফলাফলের কৃতিত্বের কথা আর উল্লেখ নাই।  ওয়েবসাইটে ইসলামের  ইতিহাস  বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওয়েবসাইটিতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট (২০১২-১৭) এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

ইসলাম শিক্ষা বিভাগের কর্মরত আছেন ৩ জন শিক্ষক।  কিন্তু ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে ২ জন শিক্ষকের কথা। ওয়েবসাইটটিতে ইসলাম শিক্ষা বিভাগে বর্তমানে কতজন অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটটিতে ইসলাম শিক্ষা বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

দর্শন বিভাগে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক আছেন ৬ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে ০৪ জনের কথা।  ইনফরমেশন বাটনে ২০০৮ ও ২০০৯ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের ফলাফলের কিঞ্চিত বর্ণনা থাকলে গেল আট বছরের ফলাফলের কোনো তথ্য মেলে নি।

ওয়েবসাইটটিতে দর্শন বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

পদার্থ বিজ্ঞান  বিভাগে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৩ জন শিক্ষক।  কিন্তু ওয়েবসাইটে আছে ৭ জনের কথা।  ওয়েবসাইটটিতে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটিতে পদার্থ  বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৩ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে মাত্র ৬ জনের তালিকা।  ওয়েবসাইটটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে কতজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান  বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে শিক্ষক কর্মরত আছেন ৬ জন।  ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে ১ জনের কথা।  ওয়েবসাইটটিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে কতজন অধ্যয়নরত আছেন তার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ওয়েবসাইটটিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

পরিসংখ্যান বিভাগে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩ জন।  কিন্তু ওয়েবসাইটে মাত্র ২ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  ওয়েবসাইটটিতে পরিসংখ্যান  বিভাগের স্টুডেন্ট ইনফরমেশন, নোটিশ, ইভেন্ট, রেজাল্ট এই বাটনগুলোতে ক্লিক করে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।  চারটি বাটনে কোনো তথ্য আপডেট করা হয় নি।

উর্দূ, সংস্কৃত, গ্রন্থাগার বিভাগ ও শরীরচর্চা শিক্ষা শিক্ষকের কথা কাগজে কলমে উল্লেখ থাকলেও ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কিত কোনো তথ্যই নাই।  ওয়েবসাইটে সবচেয়ে ভয়ানক আর করুণ অবস্থা গনিত বিভাগের। গনিত বিভাগের জন্য আলাদা বাটন থাকলেও এই বিভাগের কোনো তথ্যই ওয়েবসাইটে নাই।  ওয়েবসাইটটিতে মনোবিজ্ঞান বিভাগের কথা উল্লেখই নেই।  অথচ মনোবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শ্রেণির পাঠদান করানো হয় এমসি কলেজে।

এমসি কলেজ ওয়েবসাইটের এমন বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতে কথা হয় অধ্যক্ষের সঙ্গে।  সার্বিক বিষয়ে অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘হালনাগাদ করার জন্য সমগ্র তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সোমবার থেকে ওয়েবসাইট হালনাগাদের কাজ পুনরায় শুরু হবে।’