নিজেকে রক্ষার নাম 'না'

gbn

রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক ||

কাউকে কিংবা কোনোকিছুতে ‘না’ বললে অপরাধবোধ সৃষ্টি হয়? কেন সায় দিলেন না— তা ভেবে ভেবে অষ্টপ্রহর নষ্ট হয়? ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও বেলাভরে কষ্ট হয়? এই আবেগ সামলাতে হবে। আগলাতে হবে নিজেকে। করতে পারেন কিংবা সাধ্যের মধ্যে—তবুও ‘না’ বলতে হয়। কখনো কখনো ‘না’ না বললে আপনি টিকবেন না। সবকিছুতেই যদি ‘হ্যাঁ’ বলতে থাকেন, তবে দুনিয়া আপনাকে পেয়ে বসবে। সবার ‘হ্যাঁ’-এর হাতিয়ার হতে গিয়ে নিজের বলতে আর কিছুই থাকবে না। অন্যকে যত দিতে পারবেন, আপন-পরের জন্য যত করতে পারবেন— আপনি তত ভালো। কিন্তু সেটা কত? দুনিয়া বুঝিয়ে দিয়ে, কলিজা প্লেটে দিলেও যাদের মন পাবেন না, তাদের সামনে আপনার ‘হ্যাঁ’ দুর্বলতাই।

 

উপকার উত্তম, তবে তাও সাধ্যের মধ্যেই। অতিরঞ্জিত যে কোনো কিছুই অনাচার হবে। যে জীবন পেয়েছেন, সে জীবনের ফার্স্ট প্রাইওরিটি আপনিই। মহাত্মা হতে দোষ নেই, তবে নিজেকে বিলীন করে জনসেবা বোকামি। আমরা আপন আত্মার ওপর অবিচার করার নৈতিক ক্ষমতা রাখি না। কারো পাশে থাকা, কাউকে উপকার করা কিংবা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে সদ্‌গুণ। তবে সরলতাকে যারা পেয়ে বসে, লজ্জাকে যারা দুর্বলতা ভেবে ব্যবহার করে স্বার্থ আদায় করে— তাদেরকে চিনে নিতেই হবে। অজানা ভুল শোধরাবার চেষ্টা থাকলে তা ভুলই থাকে; কিন্তু একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ক্রাইম। ইচ্ছাকৃতভাবে কারো চাপিয়ে দেওয়া ভুলে যদি অভ্যাস গড়েন, তবে সে জীবন ঘৃণায় যাবে।

 

অনেকগুলো ক্ষতিকর ‘হ্যাঁ’ একবার দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রলোভন বিপদজনক হয়ে ওঠে ‘হ্যাঁ’ সম্মতিতে। কিছু সম্পর্ক ভাবতে আপন মনে হয়, কিছু মানুষ মনোজগতে ঠাঁই পায়— অথচ তারা স্বার্থ হাসিলের জন্যই তরী ভেড়ায়। এদের চিনতে পারার পরেও যদি সর্বশক্তিতে ‘না’ শোনাতে না পারেন, তবে সুখ হরিলুট হয়ে যাবে। দেখবেন, অনেক কিছু দিয়েও, অনেকবার আব্দার রেখেও কোনো গুণ হবে না, যদি একবার ‘না’ শুনিয়ে দেন। তখন সকল দোষের ডগায় আপনার নাম লকলক করে দুলবে। তাই সম্মতিতে সাবধান হতে হবে। যা কিছু মন্দ, ক্ষতিকর এবং অতিরিক্ত ব্যবসার— সেসবের বিরুদ্ধে অসম্মতি দিতেই ভালো মানুষ দুনিয়ায় এসেছে।

 

যারা আপনাকে ফেরি করে বিক্রি করে, নিজেদের ফায়দা কায়দা করে হাসিল করে—তাদের থেকে নিজেকে কেড়ে নিন। আপনি মাল নন; বরং মানুষ হয়ে বাঁচতে শিখুন। প্রয়োজন এক কোটি বার ‘না’ বলে হলেও নিজেকে রক্ষা করতে হবে। কে কী বলবে— এই ভাবনা ভেবে যদি অনিচ্ছায় সম্মতি দেন, তবে দিন শেষে যে আপনাকে নিয়ে ঘরে ফিরবেন, সেটা আপনি নন—বরং মুখোশ। খোসার মূল্য মূলের সামনে ম্রিয়মাণ। কাজেই পদক্ষেপগুলোতে দৃঢ় হোন। যদি সিদ্ধান্তে সঠিক থাকেন, তবে এক কথা একশো কথার চেয়েও ভারী। আর যদি ‘হ্যাঁ’-এর হাওয়ায় ভেসে চলেন, তবে হারিয়ে যাবেন। সবার কথা রাখা, মন জুগিয়ে চলা কিংবা অন্যদের মতো বলার সাধ্য কোনো কালেই আপনার হবে না। এখানে আপনি শুরু করতে পারবেন, কিন্তু সন্তোষজনক সমাপ্তির সাধ্য কোনোভাবেই হবে না।

 

সাধ্য ও সক্ষমতার সাথে সমন্বয় করে সম্মতির অভ্যাস হোক। যে ‘না’ একই সাথে অন্যকে আঘাত করে এবং আপনাকে রক্ষা করে—সে ‘না’-এর জন্য লড়ে যেতে হবে। যতই চেষ্টা করুন, সকলের মন রক্ষা করতে পারবেন না। ঋণ নিয়ে দান করতে বলা হয়নি; বরং ঋণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ‘না’-এর আবহে ভাসতে ভাসতে স্বার্থপর হয়ে যাবেন না। বরং ততটুকু করাই দায়িত্ব, যতটুকু সাধ্যের মধ্যে এবং সাচ্ছন্দ্যে করা যায়। তবে অসত্য, অন্যায় কিংবা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘না’-এর প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে রাখতে হবে। যা কিছু ভালো, তা রক্ষা ও সমর্থনে ‘হ্যাঁ’-এর স্লোগান চলুক। যে ‘হ্যাঁ’ ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করবে, সে ‘হ্যাঁ’ বলতেই হবে। কেউ মুখ চেপে ধরলেও অঙ্গের ইশারায় বোঝাতে হবে— আমি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষের লোক। ক্ষতিকর ‘হ্যাঁ’গুলো ‘না’-এর কাছে হেরে যাক। সবাই সসম্মানে বাঁচুক। ‘না’ নিজেকে রক্ষার পর্দা হয়ে উঠুক।

 

 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন