দেশের সম্মান কি ক্রিকেটের চেয়েও ছোট

gbn

রাজু আহমেদ,  প্রাবন্ধিক।  

গাদ্দার তো দেশেই! ভারতকে দোষারোপ করে আসলে নিজেদের দোষ ঢাকি। বিসিসিআইয়ের আদেশে যেদিন কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিল, সেদিনই তো ক্রিকেটারদের মিটিং করে দেশবাসীকে জানানো উচিত ছিল—' অন্তত এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।' বিসিসিআইয়ের আদেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটপ্রেমীদের ডেকে নিয়ে অপমান করা— এই সহজ সত্য আপনি বুঝবেন না?

 

বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম যে টোনে কথা বলেন, সেটাও সাংঘাতিক আপত্তিকর। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন সব কথা তিনি কেন বলবেন— সেটাও কৈফিয়তের আওতায় আনা দরকার। তবে নাজমুলের বালখিল্য ম্লান করে যাচ্ছে তামিমের পূর্বোক্ত উক্তি। কোনোভাবে বিসিবি প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তামিমও যে নাজমুলের সুরে কথা বলত, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এখানে স্বার্থই সব। স্বার্থে আঘাত লাগলে আমরা কোনো কিছুরই ধার ধরি না।

 

নাজমুলের পদত্যাগ না হলে ক্রিকেটাররা আর কোনো রকমের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতে চান না। বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে এই বিরতিটা জরুরি। দেশীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে ভক্ত-সমর্থকরা আসলে তেঁতে আছে। যে-কোনো রকমের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের একটি দীর্ঘ বিরতিই কাম্য। তাতে অন্তত প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ মিলবে। তারপর যদি তারা ভালো কামব্যাক করতে পারে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ক্রিকেট খেলে না, ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুই জানে না— তাতে তাদের জাত যায়নি, বরং উন্নতির পথে ঋদ্ধ হয়েছে।

 

ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাওয়া, না-যাওয়া এখন বাংলাদেশের আত্মসম্মানের প্রশ্ন। মোস্তাফিজের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখে ওঠানো থেকেই ষড়যন্ত্রের শুরু। তারা আসলে বড় ধরনের ধাক্কাই দিতে চেয়েছে আমাদের। চোখে চোখে কথা বলার পরিস্থিতি বা সম্পর্ক বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আর নেই। উগ্রবাদী হিন্দুদের চোখ রাঙানির প্রতিবাদে তাদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে। সম্মানের প্রশ্নে শুধু ক্রিকেট কেন, জীবন উৎসর্গ করতেও দু’বার ভাববার অবকাশ নেই।

 

উগ্র হিন্দুত্ববাদের আগ্রাসন, বিসিসিআইয়ের হঠকারিতার বিরুদ্ধে খোদ ভারতীয় বিবেকবানরাও ছি ছি দিচ্ছে। আমরা তাদের প্রতি সম্মান রাখছি। কিন্তু ক্রিকেট কিংবা সিনেমার মতো সফট পাওয়ারকে ভণ্ডুল করে যারা রাজনৈতিক আদর্শ চরিতার্থ করতে চায়, তাদের প্রাণভরে ঘৃণা করছি। মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন গংদের চুপসে থাকা এবং নাজমুলের বচন নিয়ে রীতিমতো বচসা করা— কিছু কিন্তু তো আছেই। সবার আগে দেশ, দেশের সম্মান। তাতে যদি পাঁচ বছর ক্রিকেট বন্ধ থাকে, তবে তাই করতে হবে। দালালদের কাছে নমনীয় হওয়া যাবে না।

ব্যক্তি মোস্তাফিজকে নয়, ভারত সরকার বিসিসিআইয়ের মাধ্যমে গোটা দেশকে অপমান করেছে। মোস্তাফিজকে দলে রেখে একটি ম্যাচে না নামালেও পারত, কিন্তু আদর করে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে ঘাড় ধাক্কায় বের করে দেওয়ায় তামিম, মমিনুল কিংবা মিঠুনদের আত্মসম্মানে না লাগতে পারে—কিন্তু দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীর ইগোতে খুব লাগে। এখানে মোস্তাফিজ না হয়ে যদি অন্য কেউ হতো তবুও একই রিঅ্যাকশন হতো। সবার আগে দেশ। এই ইস্যু এখন আর মোস্তাফিজে আটকে নেই— জনতার কাতারে নেমেছে। পরিস্থিতি বিতর্কিত করতে নাজমুল-মিঠুনদের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠেও দেশের সম্মানের কথাই বলব। দেশপ্রেমের পক্ষেই বলব। তাতে যদি সুখের কিংবা সম্ভাবনার কোনো কিছুকে কোরবানি দিতে হয় তবুও পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই।

 

 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন