সিলেটে ‘মহাপরিকল্পনায়’ বদলে যাচ্ছে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবন

399
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবন। ২০১১ সালে নগরীর তোপখানা এলাকায় অবস্থিত এ ভবনের নির্মাণকাজ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। রং করা হয়নি ভবনের কোথাও, এমনকি ভবনের ‘সানসেটে’ লাগেনি আস্তরণের ছোঁয়া। ততোটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছিল তার মাঝেই নিজেদের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য পুরো ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। দীর্ঘ ৬ বছর ওখানেই চলে সিলেট সিটি করপোরেশনের যাবতীয় কার্যক্রম। আর ভবন নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের ঠাঁই হয় পাশ্ববর্তী সারদা হলে।

গত প্রায় মাস দেড়েক আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের সকল কার্যক্রম তাদের নিজস্ব এবং স্থায়ী ভবনে নিয়ে আসার পর ফের অবহেলায় পড়ে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবন। তবে এ অবহেলার আড়ালে রয়েছে সিসিক’র মহাপরিকল্পনা। এ মহাপরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন সিসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনের মতো একটা জায়গা বের করা কঠিন। ভবনের সামনেই সুরমার কলতান, একপাশে থানা, পাশেই ঐতিহ্যবাহী ক্বিন ব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি এবং সার্কিট হাউজ। সব মিলিয়ে সকল সৌন্দর্যসম্ভার এবং ঐতিহ্যের দিক চিন্তা করে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনে ‘বহুমুখী কার্যক্রম’ শুরু করার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন।

যেখানে থাকবে সিসিকের অত্যাধুনিক ‘কমিউনিটি সেন্টার’, সুবিন্যাস্ত ‘রেস্ট হাউজ’ এবং বিশাল ‘পাঠাগার’।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনে ‘বহুমুখী কার্যক্রম’ শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এখনো বরাদ্দ ঠিক করা হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে চলছে নকশা তৈরির কাজ। ‘শুভজিৎ এসোসিয়েট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নকশা তৈরির কাজ করছে। কাজ অনেক দূর এগিয়েছে বলেও জানালেন এনামুল হাবিব।

তিনি বলেন, নকশা তৈরির কাজ এখন মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। কাজ শেষ হলেই মাস দেড়েকের মধ্যে টেন্ডার আহ্বানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনের জায়গাটি সিলেট সিটি করপোরেশনের। ৩৩ শতাংশ জায়গার প্রায় অধিকাংশ জুড়ে নতুন ভবন নির্মানের আগে ওখানে ছিল ‘পাঠাগার’। নতুন পুরাতন সব বইয়ের সম্ভারে পাঠাগারটি ঠাঁই নিয়েছিল বইপ্রেমীদের ভালোবাসায়। যার নাম দেয়া হয়েছিল সিলেটের এক কীর্তিমান পুরুষ, বাম রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব পীর হবিবুর রহমানের নামে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ২০০৮ সালে ওখানে নতুন ভবন নির্র্মাণ শুরু হলে পাঠাগারকে পার্শ্ববর্তী সারদা হলে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর ২০১১ সালে পাঠাগার ভবনের নির্মাণকাজ শেষের পর্যায়ে চলে আসলে ভবনটিকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে সিলেট সিটি করপোরেশন।

এর প্রায় ৬ বছর পর গত সেপ্টেম্বরে সিলেট সিটি করপোরেশনের সকল কার্যক্রম তাদের নিজস্ব এবং স্থায়ী ভবনে ফিরে আসায় আবারো অবহেলায় পড়ে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবন। এ অবস্থায় পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবন নিয়ে এ মহাপরিকল্পনার কথা জাননিয়ে সিসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলেও পাঁচতলা ভবনটি উপরের দিকে আপাতত আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই।