ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ
পলাশবাড়ি মহিলা কলেজে ২০২৬ ইং শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজার রহমান পাপুল এবং তার ঘনিষ্ঠ দোসর অফিস সহায়ক লতু–এর দিকে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ড নির্ধারিত ফি’র বাইরে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা না দিলে ফরম পূরণে গড়িমসি, ভয়ভীতি এবং নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। শিক্ষা যেখানে সেবার জায়গা, সেখানে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে প্রকাশ্য অর্থ আদায়ের এমন ঘটনা চরম নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক।
অভিযোগ রয়েছে, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং একটি সংঘবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। অফিস সহায়ক লতু সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন এবং পুরো বিষয়টি অধ্যক্ষের জ্ঞাতসারেই ঘটছে বলে দাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, “ফরম পূরণ করতে গেলে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়।”
অভিভাবক মহল প্রশ্ন তুলেছেন—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে কীভাবে? শিক্ষা প্রশাসনের নীরবতা কি এসব দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে?
আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে পলাশবাড়ি মহিলা কলেজ–এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য নয়—দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন