ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ ছিল বলে বুধবার মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সেই সঙ্গে তিনি সংঘাত দ্রুত প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সিডনিতে লোউই ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাংকের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কার্নি বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগকে কানাডা স্বাগত জানায়— যা তার মতে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসের প্রধান উৎস’।
তবে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বা এর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’।
তিনি যোগ করেন, ‘এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিশেষজ্ঞরা। আমি কোনো আইনজীবী নই, আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞ তো নয়ই।’
অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে কার্নি এই মন্তব্য করেন। এই সফরের লক্ষ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং আরেকটি ‘মধ্যম শক্তিধর’ অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করা।
এই সফর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক দেশ সফরের অংশ, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। কার্নির ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
সাবেক এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকার প্রায়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন; ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন এবং দেশটির ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন।
জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে রাজনৈতিক ও আর্থিক নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে কার্নি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ‘একটি বড় ভাঙনের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বুধবার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ’।
তিনি বলেন, ‘কানাডা দ্রুত শত্রুতা হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে প্রস্তুত।’
তিনি আরো বলেন, ‘কানাডা পুনর্ব্যক্ত করছে যে আন্তর্জাতিক আইন সব যুদ্ধরত পক্ষের ওপর বাধ্যতামূলক।’
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন