সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণা, সাত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

37
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

প্রথমে এক গাড়ি ব্যবসায়ীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে তার কাছ থেকে মার্সিটিজসহ চারটি গাড়ি কেনেন এক প্রতারক। সেখানে বাকি রাখেন এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এরপর গুলশানে একটি প্লট বিক্রির কথা বলে অগ্রিম ওই ব্যবাসায়ীর কাছ থেকে নেন আরো পাঁচ কোটি টাকা। এরপর বাকি টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বনানী এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের হোতা কামরুল হুদা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, কামরুল হুদা বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর প্রায় সাত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীকে সে ও তার সহযোগীরা হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি আদালতেও মামলা হয়েছে। ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও তদন্ত করছে।

তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি ফরমান আলী আজ মঙ্গলবার বিকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কামরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতারণা মামলার তদন্ত চলছে।

মামলার বাদি এজাহারে বলেছেন, তিনি একজন গাড়ি ব্যবসায়ী। গুলশান এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আসামি কামরুল হুদা গত কয়েক বছরে তার কাছ থেকে একটি মার্সিটিজ গাড়িসহ মোট ৪টি গাড়ি কিনেছিল। এই গাড়ি বিক্রির বিপরীতে কামরুল হুদার কাছে তার পাওনা রয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সেই টাকা তিনি এখনও পরিশোধ করেননি। মূলত ভালো সম্পর্ক থাকায় বিশ্বাস করে তিনি এই বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রেখে তার কাছে গাড়ি বিক্রি করেছিলেন। এখন পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে কামরুল হুদা।

মামলার বাদি এজাহারে আরো বলেছেন, কামরুল হুদা গুলশান এলাকায় একটি প্লট বিক্রির কথা বলে পাঁচ কোটি অগ্রিম টাকা নিয়েও তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখন সে গাড়ির টাকাও পরিশোধ করছে না, আবার বাড়িসহ জমি বিক্রির অগ্রিম টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। সে ও তার সহযোগিরা থানায় মামলা করায় প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি দিচ্ছে। এখন তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, কামরুল হুদা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। সম্পর্কের শুরুতে তিনি তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে জানতেন। এ কারণে তার কাছে বাকিতে গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি প্লট কিনতে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের কারণেই তিনি তার সঙ্গে বিপুলে অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেন। এখন টাকা ফেরত পেতে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More