কথা সাহিত্যিক রিজিয়া রহমানের ইন্তেকালে বাংলাদেশ ন্যাপ’র শোক

73
gb

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক রিজিয়া রহমান ইন্তেকালে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোক বার্তায় পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া মরহুমা রিজিয়া রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিসমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোক বার্তায় বলেন, রিজিয়া রহমান বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম। প্রায় অর্ধশতক ধরে এ দেশের কথাসাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর চর্চিত সাহিত্যে। লেখালেখি শুরু করেছিলেন কবিতা দিয়ে, দ্বিতীয় ধাপে গল্প এবং সর্বশেষ উপন্যাসে এসে স্থিত হন। উপন্যাস ও গল্প মূলত কথাশিল্পের এই দুটি ধারাতেই তাঁর বিচরণ। প্রবন্ধও লিখেছেন বেশ কিছু।

তারা বলেন, রিজিয়া রহমানের লেখার প্রধান উপজীব্য ছিল অন্ত্যজ মানুষের জীবন, তাদের দু:খ বেদনা, জীবন সংগ্রাম এবং জীবনরস। তার অনুসন্ধ্যানী অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে উঠে এসেছে মানুষের জীবন, বেচে থাকার নিগূরতম সত্য-সৌন্দর্য এবং বিচিত্রতা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ক্যানসার ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা নারী ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমান। ১৯৩৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভারতের কোলকাতার ভবানীপুরে তার জন্ম। রিজিয়ার পৈত্রিক বাড়ি ছিল কোলকাতার কাশিপুর থানার নওবাদ গ্রামে। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা শুরু ফরিদপুরে। সেই সময় শখের বশে কবিতা লিখতেন। ১৯৫০ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার লেখা গল্প টারজান সত্যযুগ পত্রিকায় ছোটদের পাতায় ছাপা হয়। নিজের লেখনির মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রায় ছয় দশক ধরে অবদান রেখেছেন রিজিয়া রহমান।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অগ্নিসাক্ষরা, ঘর ভাঙা ঘর, রক্তের অক্ষর, বং থেকে বাংলা, অলিখিত উপাখ্যান, সূর্য-সবুজ-রক্ত, অরণ্যের কাছে, উত্তর পুরুষ, শিলায় শিলায় আগুন, হে মানব মানবী, নদী নিরবধি, পবিত্র নারীরা এবং সীতা পাহাড়ে আগুন, প্রজাপতি নিবন্ধন।

লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক প্রদান করে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন