শিক্ষকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বোনে অভিযোগ গোলাপগঞ্জের কোনাচর বাজারে তুহিন হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সভা

82

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি//

গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের কোনাচর পলিতাপর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল মানিকের পুত্র সিলেট কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণার্থী তানভীর হোসেন তুহিনের খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবীতে গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব জিয়াউল ইসলাম জিতু মিয়ার সভাপতিত্বে ও তরুণ সমাজসেবী লায়েছ আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল আহাদ, লক্ষীপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ আহমদ, প্রবীণ শিক্ষক নির্মল কান্তি দাশ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহান আহমদ, ইউপি সদস্য তারেক আহমদ, প্রবীণ রাজনীতিবিদ আরিফ আহমদ মজনু, সমাজসেবী আব্দুর রহিম নান্টু, ক্রীড়া সংগঠক ময়নুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া, ইউপি সদস্য ইসমাইল আলী, অস্তর আলী মেম্বার প্রমুখ। একটি সূত্রে জানা যায় গত ২৪ জুলাই সিলেট কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন তুহিনকে সহপাঠিরা খুন করার আগে তারা পরিকল্পনা করেছিল এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খুনিরা ২ দিন পূর্বে তুহিনকে কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাথরুমে দীর্ঘ সময় আটক রেখে ছিল। বিষয়টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানতেন বলে তুহিনের বোন সাবেরা খানম উর্মি প্রতিবেদককে জানান। তুহিন হত্যার প্রতিবাদে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য তারেক আহমদ জানান। এদিকে এ ঘটনার অভিযোগে গতকাল ঘটনার প্রধান আসামী রাহাত ছাদি কামরার সহ ২ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৯। এছাড়া ঘটনার পর পর আরো একজন আসামী ধরা পড়ে। তুহিন হত্যার সঙ্গে জড়িত এ পর্যন্ত ৩ জন ধরা পড়েছে। এদিকে সিলেট কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সহপাঠিদের হাতে খুন হওয়া তানভীর হোসেন তুহিনের বোন ভাই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকেও দায়ী করেছেন। বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া বোন সাবেরা খানম উর্মি এলাকাবাসী আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দান কালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার ভাইকে তার সহাপাঠিরা নির্মম ভাবে আঘাত করে মাটিতে ফেলার পর অন্যান্য সহপাঠিদের সহযোগীতায় দীর্ঘ সময় পর হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় শিক্ষকদের নিরবতা রহস্যেজনক বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩ ঘন্টা পর শিক্ষকরা আমাদেরকে ফোন দিয়ে জানান হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখি দীর্ঘ ৩ ঘন্টা ধরে আমার ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের মাটিতে পড়ে আছে। তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা কোন সহযোগীতা করছেন না। উপস্থিত শিক্ষকদের কোন তৎপরতাও পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদের আহাজারি দেখে একজন ডাক্তার আমার ভাইয়ের চিকিৎসা শুরু করে বলেন ওর অবস্থা ভাল নয়, তাকে আপনারা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যান। আমার আর কোন ভাই নাই, একমাত্র ভাইকে তার সহপাঠিরা তুচ্ছ ঘটনায় নির্মম ভাবে আঘাত করে খুন করেছে। আমার আরো একটি ভাই থাকলে সে এসে এখানে বক্তব্য দিত, আমি মহিলা হয়ে আজ ভাই হত্যার বিচার চাইতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমার মা একমাত্র ভাইকে হারিয়ে আজ বাকরুদ্ধ। বৃদ্ধ বয়সে বাবা বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন শুধু আমি ও আমার ভাইয়ের জন্য। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।