বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) এসোসিয়েশনের কর্মবিরতি স্থগিত

112

 

বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিসদের) চাকুরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্তির দাবিতে এবং গত ২৫ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত অনশন কর্মসূচিতে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) এসোসিয়েশন বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। যার মধ্যে ৩রা জুলাই থেকে সারাদেশে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে, ১০ জুলাই সারাদেশে সকল সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে এবং ১৩ জুলাই ২০১৯ আমাদের দাবির প্রতি সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য না থাকলে নতুন কঠোর ও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) এসোসিয়েশনের এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এগুলো ঘোষনা করেন।

এসময় তারা বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রায় ১৮ হাজার এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) নিরূপায় হয়ে আপনাদের স্মরণাপন্ন হয়েছি। আপনাদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
গত ২৫ জুন ২০১৯ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চাকুরী রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্তির দাবিতে পুলিশী অনুমতি নিয়ে আমরন অনশন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করতে গিয়ে পুলিশী বাধায় আমাদের কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায় এবং সেখান থেকে আমাদের ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১০ জনের অধিককে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।

তারা বলেন, আমরা সেসময় বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করে আমরন অনশন কর্মসূচি স্থগিত করে সারাদেশের এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) স্ব-স্ব সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে কর্ম বিরতি কর্মসূচি পালন করে আসছি।

নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে, দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ঘোষণা দিয়েছেন তা যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলেই আমরা দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবো। আমাদের একটাই দাবি চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে হবে। ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণা ও ১৯৮৪ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এক সমাবেশে নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ীকরণের সানুগ্রহ সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজো আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়নি।

তারা বলেন, আশার আলো নিয়ে নকল নবিসরা এখনও স্বপ্ন দেখেন বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা বাস্তবায়ন হবে। কারণ একটাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ১৯৮৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বায়তুল মোকারমের উত্তর গেইটে এক জনসভায় নকল নবিসদের চাকুরী রাজস্ব খাতে আনয়নের জন্য সানুগ্রহ সমর্থন করেছিলেন। এরপর ৪ বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকলেও আজও নকল নবিসদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করাই এর মূল কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট এর নকল নবিস মিডওয়াইফারি নার্সদেরকেও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন অধিদপ্তরের সকল নবিসদের বিষয়টি আজো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমলে নেননি। নকল নবিসরা সরকারি কোন বেতন ভাতা পান না। সমাজের মানুষ জানে তারা সরকারি চাকরি করেন। কিন্তু বাস্তবে নকল নবিসরা জমি দলিলের এক পৃষ্ঠা বালামে লেখলে মাত ২৪ টাকা মজুরি পায়। প্রকৃতপক্ষে এক পৃষ্ঠা নকল বালামে লেখার জন্য জনগণের কাছ থেকে সরকার রাজস্ব খাতে নেয় ৪০ টাকা। সেখান থেকে নকল নবিসদের দেয়া হচ্ছে ২৪ টাকা। বাকি ১৬ টাকা রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে। নকল নবিসদের টাকা দিয়েই তাদের রাজস্ব খাতে নেয়া সম্ভব। নকল নবিসদের দীর্ঘদিনের দাবি তাদের চাকরি স্থায়ী করা হোক। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অভাবে তারা আজও অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

তারা বলেন, বর্তমানে দ্র্রব্যমূল্যের বাজারে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আপনাদের একটু লেখনী ও সহযোগিতা আমাদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এই প্রত্যাশা আমাদের।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবিস) এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি মো. প্রদীপ কুমার দে, মো. আব্দুল কুদ্দুস সুমন, মো. শফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব মো. সাদিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ এনামুল হাসান রোমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতা মো. এলাহী সাত্তার, প্রচার সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতা মো. কামরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জিয়া, নরসিংদী জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিবুর রহমান প্রমুখ।