মালিকরা শপিংয়ে, শ্রমিকরা রাস্তায় : দ্রুত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করুন : বাংলাদেশ ন্যাপ 

61
gb
ঈদের একসপ্তাহ আগেই তৈরি পোশাক শ্রমিক, গণমাধ্যম কর্মী এবং দেশের সরকারি পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামীঅ পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় তৈরি পোশাক শিল্প, গণমাধ্যম কর্মী এবং দেশের সরকারি পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও সকল ধরনের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান এবং একই সাথে তারা শ্রমিক ছাটাই বন্ধেরও দাবী জানান।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় কৌশলে শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। শ্রমিকরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরভাড়া, দোকানের বাকি টাকা পরিশোধ ও তাদের সন্তানদের ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত রেখে কারখানার মালিকরা ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছেন। অথচ শ্রমিকরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তারা বলেন, অবিলম্বে ঈদের আগে সকল কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই ও হয়রানি বন্ধ করতে সরকারকে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এরইমধ্যেই যে সব কারখানা শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দিয়ে অনির্দিষ্টকালের বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, তাদের অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধেরও ব্যবস্থা করতে হবে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি কোনো কারখানা এ সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করে, তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কারণ সরকারকে মনে রাখতে হবে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের শ্রম ও ঘামে দেশের অর্থনীতির ভীত শক্তিশালী হয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, তারাই সব চেয়ে অবহেলিত জীবন যাপন করছেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, গণমাধ্যম কর্মীরা দেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেন না। দুঃখজনক হলেও সত্য অনেকগুলো গণমাধ্যমে কর্মরতদের বেতন কয়েক মাস পর্যন্ত বকেয়া হয়ে আছে। কষ্ট আছে বোনাস পাওয়ার প্রশ্নেও। গণমাধ্যম কর্মীদের এই সকল বিষয়েও সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা যাতে করে তারা তাদের বেকয়া বেতন-ভাতা পায় এবং পরিবারের সাথে ঈদের আন্দ উপভোগ করতে পারে।
তারা বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় নয় দফা দাবিন্ধের্মঘটসহ বিভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সেই সকল শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কষ্ঠ লাঘবের জন্য সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া টাকা ঈদের পূর্বে পরিশোধের ব্যাবস্থা করে সরকার জনগনের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান করবেন বলে জাতি প্রত্যাশা করে।
তারা বলেন, আমরা আশা করছি, তৈরি পোশাক শিল্প, বেসরকাার গণমাধ্যমের মালিকরা ও সরকারি পাটকল শ্রমিকদের সরকার ঈদের একসপ্তাহ আগেই তাদের সকল বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করবেন। যাতে সবাই একসঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ঈদের অনাবিল আনন্দ যেন একই সঙ্গে সকল জনগনের হৃদয়ে দোলা দেয়।
এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, দফতরগুলো কার্যকর উদ্যোগ নেবে, প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাশরি হস্তেক্ষেপের মাধ্যমে এসকল সদস্যা সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ন্যাপ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব।
gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More